স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও ডিজির অপসারণের দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচী

Share It
  • 194
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    194
    Shares

ব্যর্থতার দায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির অপসারণসহ ৪ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। গতকাল বিকাল ৩টা থেকে শুরু হয়ে আজ বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে এই অবস্থান কর্মসূচী পালিত হয়েছে। অবস্থান কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্যসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। অবস্থান কর্মসূচীতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন বলেন, “শাহেদ, সাবরিনা ও আরিফ গংদেরকে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে দীর্ঘদিন যাবত যারা পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করছি, খুব শীঘ্রই সরকার আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিবেন। অন্যথায় আমরা আরোও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবো। 

আগামী রবিবার ১৯ জুলাই রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। করোনা ভাইরাস সংকট এখন বৈশ্বিক মহামারীতে রূপান্তরিত হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী সকলের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা। যারা আইসলোশনে আছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। গত ২৬ মার্চ লকডাউন শুরু হওয়ার পর “আর্ত মানবতার সেবায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ”-এই শ্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সমগ্র দেশে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। প্রায় ১০ হাজার মানুষকে টেলিমেডিসিন সেবা প্রদান করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মেডিকেল টীম। করোনা সংকট মোকাবিলার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, পুলিশ, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা সংকট মোকাবিলার জন্য দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পক্ষ থেকে সামনের সারির করোনা যোদ্ধাদের প্রতি রইলো শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। অতীব দুঃখের বিষয় এই যে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি বর্তমানের সরকারের সফল অর্জনগুলোকে ম্লান করে দিচ্ছে। পিপিই-মাস্ক কেলেঙ্কারী, আরটি পিসিআর মেশিন কেলেঙ্কারী, হিসাবরক্ষকের টেন্ডার কেলেঙ্কারী, জিকেজি কেলেঙ্কারী ইত্যাদি ঘটনার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেছে। সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিই প্রমাণ করে স্বাস্থ্যখাত এখন মাফিয়াদের দখলে। করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারীতেও এনাদের অপকর্ম থেমে নেই। আমরা অবিলম্বে ব্যর্থতার দায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির অপসারণ দাবি করছি। স্বাস্থ্য খাতে পরিকল্পিত ভাবে এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম সংঘটিত করে সরকারের সফল অর্জনগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু ব্যক্তির এহেন গভীর ষড়যন্ত্র কখনোই বরদাশত করবে না মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোন দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই হবে না।

কিছুদিন আগে টাঙ্গাইলে চিকিৎসক কর্তৃক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করে তাঁর মুক্তিযোদ্ধা সনদ ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল। আজও পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সঠিক নজরদারির অভাবে একের পর এক এসব কেলেঙ্কারী স্বাস্থ্য খাতকে বিতর্কের দিকে ঠেলে দিয়েছে। দায়িত্বশীল পদে থাকার পরেও স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির দায়িত্বহীন বক্তব্য মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিজেদের ব্যর্থতা লুকানোর চেষ্টা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। কারণ যথাযথ চিকিৎসা পাওয়া জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। সাধারণ জনগণের বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার সামর্থ্য নেই। দেশে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া তাদের মৌলিক অধিকার। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের সকল জেলা-উপজেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার প্রকৃত পরিবেশ কতটা নিম্নমানের তা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। যথাসময় চিকিৎসক না পাওয়া, সরকারী ঔষধ বাহিরে বিক্রি, বাহিরে রমরমা ক্লিনিক ব্যবসা, বিভিন্ন টেস্টের নামে রোগীর পকেট কাটা, হাসপাতালগুলোর পরিবেশ অপরিষ্কার ও নোংরা ইত্যাদি সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন বর্তমান স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্তারা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বাস্থ্য খাতের সম্প্রতি বিতর্কিত ঘটনাগুলো নিয়ে ইতিমধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তারপরেও স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও ডিজি বহাল তবিয়তে চেয়ারে বসে আছেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সরকারের কাছে জানতে চায় যে, এতো বিতর্ক ও সমালোচনার পরেও স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির খুঁটির জোর আসলে কোথায়? দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে তারা দুজন স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ভার কখনোই এড়াতে পারেন না। ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে অনেক আগেই তাদের পদত্যাগ করা উচিত ছিলো। স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির অপসারণ এখন জন দাবিতে পরিণত হয়েছে।” মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এর ৪ দফা দাবিসমূহ: ১। ব্যর্থতার দায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। ২। স্বাস্থ্য খাতের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখার জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ৩। দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ ইউনিট স্থাপন করে বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। ৪। দেশের সকল জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহে চিকিৎসার মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নতমানের আইসিইউ বেড স্থাপন করতে হবে।


Share It
  • 194
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    194
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here