১৮ বছরেই ঝুঁকিপূর্ণ লাঙ্গলবন্দ সেতু

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর অবস্থিত লাঙ্গলবন্দ সেতু। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দের খুব কাছাকাছি হওয়ায় সেতুটির নামকরণ করা হয়েছিল লাঙ্গলবন্দ সেতু। সেতুটির অবস্থান লাঙ্গলবন্দের কাছাকাছি হলেও এটি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানা এলাকার অন্তর্গত। ২০০০ সালে সেতুটি নির্মিত হওয়ার পর এর স্থায়িত্ব ধরা হয়েছিল ৯৯ বছর। কিন্তু নির্মাণের ১৮ বছরের মধ্যেই এটি নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেতুটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল আল আমিন কনস্ট্রাকশন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে লাঙ্গলবন্দ সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। যে কোনো সময় এটি ধসে পড়লে এ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্নিষ্ট প্রকৌশলীরা। এতে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামসহ ৮-১০টি জেলার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর মধ্যখানে ডেক স্লাব মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। সেতুর স্লাবের বেশ কিছু অংশেও দেখা দিয়েছে ছিদ্র। তাছাড়া রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে সেতুটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ১৬১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ মিটার প্রস্থের এ সেতুর ১২৪ বর্গমিটার অংশ মেরামত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সেতুর ওপর থেকে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাশের রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে সেখানে রড বেরিয়ে পড়েছে। সেতুর ঢাকামুখী অংশে তিনটি এমএস প্লেট বসিয়ে জোড়াতালি দেওয়া

হয়েছে। যানবাহন ওই এমএস প্লেটের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিকট শব্দ সৃষ্টি করে। সেতুর জোড়াতালি অংশের পাশে রেলিং ঘেঁষে দাঁড়ালে বোঝা যায় যান চলাচলের সময় এটি ভয়ঙ্করভাবে দুলে উঠছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে সেতুটির ক্ষতি ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। প্রতিদিন এর ওপর দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার যান চলাচল করছে।

সেতুর তদারককারী নারায়ণগঞ্জ সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলম খান বলেন, জরুরিভাবে সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করার জন্য দক্ষ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে। অতিদ্রুত সে কাজ শুরুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনার অপেক্ষা করছি। সার্বক্ষণিক তদারক করে সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সাময়িকভাবে মেরামত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।


Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here