৮৯ হাজার কারাবন্দির স্বাস্থ্য সুরক্ষা চেয়ে কোর্টে রিট

Share It
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

মহামারিকালে ৮৯ হাজার কারাবন্দির করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা ও স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা চেয়ে রিট করা হয়েছে।

রোববার  বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এ রিট করেন।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, রিটে দেশের সব কারাগারে কারাবন্দি ও কারারক্ষীদের স্বাস্থ্য গত সুরক্ষার নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে নির্দেশন চাওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের আলোকে কী কী প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছে তা আদালতকে জানানোর নির্দেশন চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ মে কারাবন্দিদের মহামারি করোনাভাইরাস থেকে রক্ষায় কারা কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা জানাতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান আইনজীবী শিশির মনির।

নোটিশে বিভিন্ন কারাগার ও সংশোধনাগারে কারাবন্দিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মুক্তির বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি এবং পদক্ষেপ সম্পর্কে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী করোনার থেকে রক্ষায় সামাজিক দূরত্বকে প্রধান উপায় হিসাবে গণ্য করা হয়। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের সব দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ এই ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রতিনিয়ত নির্দেশনা জারি করছে।

গত ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশ সাধারণ ছুটির আদলে মূলত লকডাউন পালন করছে। সকল পর্যায়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা কারাবন্দিদের অবস্থা খুবই নাজুক। দেশের কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতার দিগুণেরও বেশি বন্দি রয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে দেশের ৬৮টি কারাগারে ৪১ হাজার ২৪৪ জনের স্থান হলেও বর্তমানে সেখানে ৮৫ হাজার বন্দী রয়েছে। এই অবস্থায় কারাভ্যন্তরের বন্দিদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বস্তুত অসম্ভব। এরইমধ্যে ২৩ জন করারক্ষী এবং ২ জন বন্দির শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত ১২ মে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে এক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

গবেষণায় প্রতীয়মান হয় যে, করাগারের সংকীর্ণ জায়গা সংক্রামক ব্যাধির উর্বর ক্ষেত্র। অধিকন্তু কারাবন্দিদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং আদেশ-নিষেধ অনুযায়ী তাদের চলতে হয়। এই প্রেক্ষাপটে করাবন্দীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরা কর্তৃপক্ষের উপর বর্তায়।

নোটিশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৩ হাজার বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। এটি অবশ্য প্রশংসনীয় উদ্যোগ কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এটি যথেষ্ট নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কারাবন্দি, কারারক্ষী এবং কারা চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন কারাগার ও সংশোধনাগারে কারাবন্দিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মুক্তির বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি এবং পদক্ষেপ কি নেওয়া হয়েছে তা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন আইনজীবী।


Share It
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here