পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর এপিএস কবির খানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে যশোরে মামলা!

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জেমস আব্দুর রহিম রানা,  যশোর :যশোরের মনিরামপুরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমের ব্যক্তিগত সহকারি মনিরুল ইসলাম নয়নকে মারপিটের পর বের করে দেওয়ার অভিযোগে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর এপিএস কবির খান সহ ৮ জনের নাম উল্লেখসহ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা চেয়াম্যানের পিএস মনিরুল ইসলাম নয়ন বাদি হয়ে এ অভিযোগ করেন। আসামিরা হলেন,  পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যের এপিএস সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কবির খান, বিল্লাল হোসেন, আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, ইলিয়াস হোসেন, রমেশ দেব নাথ, সোহাগ ও উত্তম দে।
জানাযায়, নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রথম আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় বুধবার সকালে পরিষদের মিলনায়তনে। প্রধান অতিথি ছিলেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি। উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান, থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জলি আকতার, প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোতাহার হোসেন, সকল ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যরা।
সভায় ঝাপা ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক মন্টু অভিযোগ করেন ১৭ জুলাই উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি নাজমা খানমের ছেলে আসিফ খান অভি তার ফেসবুক আইডিতে জনপ্রতিনিধিদের কটাক্ষ করে একটি ষ্ট্যাটাস দেন। এ অভিযোগ উত্থাপন করে চেয়ারম্যান মন্টু দোষি ব্যক্তির শাস্তি দাবি করেন। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান তার ছেলের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ খন্ডন করে বিভিন্ন উপমা দিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে ভোজগাতী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ঝাপার চেয়ারম্যানের পক্ষ নিয়ে নাজমা খানমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তিরষ্কার করেন। নাজমা খানম এ সময় উত্তেজিত হয়ে পাল্টা আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। এ সময় বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের পক্ষে অবস্থান নেন। ফলে সভাকক্ষে বাকবিতন্ডাসহ প্রচন্ড হট্টোগোল শুরু হয়। এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম সভা ত্যাগ করে চলে যান। নাজমা খানমের অভিযোগ পরিকল্পীতভাবে ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক মন্টু এবং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক প্রতিমস্ত্রীর উপস্থিতিতে গালিগালাজসহ হাত উচু করে তার দিকে তেড়ে আসেন। এ সময় অবশ্য উপস্থিতিরা তাদেরকে ঠেকিয়ে দেন।
অন্যদিকে গালিগালাজের অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুর রাজ্জাক জানান, বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে তার কাববিতন্ডা হয়েছে।
অপরদিকে নাজমা খানম আরো অভিযোগ করেন সভাকক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীর পিএস কবির খান তার পিএস নয়নকে মারপিট করে বের করে দিয়েছে।
তবে মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করে কবির খান জানান, প্রতিমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য আইন শৃঙ্খলা কমিটির বাইরের লোকজনকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেয়া হয়। উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হোসেন এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
উপজেলা চেয়ারম্যানের পিএস মনিরুল ইসলাম নয়ন আমাদের প্রতিনিধি জেমস আব্দুর রহিম রানাকে জানান, এ ঘটনায় তিনি প্রতিমন্ত্রীর এপিএস কবির খানসহ ৮ জনের নাম উল্লেখসহ বৃহস্পতিবার রাতে থানার ডিউটি অফিসার এসআই সৌমেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
এসআই সৌমেন কুমার বিশ্বাস জানান, লিখিত অভিযোগটি ওসি সাহেবের কাছে দেয়া হয়েছে।
থানার ওসি (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম শুক্রবার সকালে  এ রিপোর্ট লেখার সময় জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য গত ৪ এপ্রিল সরকারি ৫৫৫ বস্তা চাল পাচারের সময় পুলিশ চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ট্রাক চালক ফরিদ হাওলাদারকে আটক করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। পুলিশ পরবর্তিতে আরো ৩ জনকে আটক করে। উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম চাল পাচারের ঘটনার মূল হোতা হিসেবে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর ভাগ্নে ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে বিবাদ চলে আসছে।

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here