আর্থিক খাতের দাপটে বাকি সব বেহাল

আগের তিন সপ্তাহের ধারা বজায় রেখেই চলতি সপ্তাহের লেনদেন শুরু হয়েছে। প্রথম কার্যদিবসে বেড়েছে শুধু ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা খাতের শেয়ারদর। বাকি সব খাতের প্রায় সব শেয়ারের দর কমেছে। দরবৃদ্ধির শীর্ষ ৫৪ কোম্পানির মধ্যে আর্থিক খাতের বাইরে অন্য কোনো শেয়ারের ঠাঁই হয়নি। বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ৭১ পয়েন্ট বা সোয়া এক শতাংশ।

এদিকে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি পাওয়া পাঁচ কোম্পানি আজিজ পাইপস, ড্রাগন সোয়েটার, কেঅ্যান্ডকিউ, মুন্নু সিরামিক ও স্টাইল ক্রাফটকে স্পট লেনদেনে পাঠানোর পর এসব শেয়ারের বড় দরপতন হয়েছে। কেনাবেচা হয়েছে দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন দরে, ছিল ক্রেতাশূন্য অবস্থা।

পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি পাওয়া আরও অন্তত আট কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়েছে। শেয়ারগুলোর ৫ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ দরপতন হয়েছে। এমনকি রেকর্ড ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণার পরও এক পর্যায়ে ড্রাগন সোয়েটারের ১৫ শতাংশ দরপতন হয়। যদিও

শেষ পর্যন্ত সাড়ে ৭ শতাংশ দরপতনে লেনদেন শেষ হয়।

সার্বিক হিসাবে গতকাল প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩৩৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে ১২৭টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির দর। অর্থাৎ ৩৮ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে প্রায় ৫৫ শতাংশের দর কমেছে।

সার্বিক লেনদেনে আর্থিক খাতের লেনদেন চিত্র যেমন সুখকর ছিল, তেমনই করুণ দশা ছিল বাকি সব খাতে। গতকাল লেনদেন হওয়া ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক এবং বীমা খাতের ৯৯ কোম্পানির মধ্যে ৮৩টিরই দর বেড়েছে, কমেছে ১১টির এবং অপরিবর্তিত পাঁচটির দর। দর হারানো ১১ কোম্পানির মধ্যে ১০টিই বীমা খাতের।

অন্যদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্রসহ উৎপাদন ও সেবামুখী বাকি ১৫ খাতের লেনদেন হওয়া ২০২ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে মাত্র ৩১টির দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৬২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল বাকি ৯ কোম্পানির দর। শুধু শেয়ারদর নয়, লেনদেনেও ছিল একই চিত্র। তিন আর্থিক খাতের লেনদেন বৃহস্পতিবারের তুলনায় ৯৫ কোটি টাকা বেড়ে ২৫৭ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অন্য ১৫ খাতের লেনদেন ৬৬ কোটি টাকা কমে ২৯২ কোটি টাকায় নেমেছে।

এমন অবস্থার পরও প্রধান সূচক ডিএসইএক্স লেনদেনের শেষে প্রায় ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ৫৫৪৯ পয়েন্ট ছাড়ায়। তবে ক্লোজিং হিসাবে প্রায় ৭১ পয়েন্ট বা সোয়া ১ শতাংশ বেড়ে ৫৫৩৮ পয়েন্টে থামে। লেনদেনের এমন চিত্র ছিল চট্টগ্রামকেন্দ্রিক দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতেও।

এমন অবস্থার জন্য ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের শেয়ারের দরবৃদ্ধির ক্ষেত্রে আইসিবির ভূমিকাকে দায়ী করেছেন বাজার সংশ্নিষ্টরা। পাশাপাশি অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি পাওয়া আট কোম্পানির বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও বড় প্রভাব ফেলে। তাদের মতে, পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অন্য শেয়ার ছেড়ে ব্যাংক এবং ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের শেয়ারে ঝুঁকছেন।

এর ফলে গতকাল ব্যাংক খাতের লেনদেন হওয়া ৩০ কোম্পানির মধ্যে আইসিবি ইসলামিক ছাড়া বাকি সবগুলোর দর বেড়েছে। গড়ে খাতটির দর বেড়েছে ৪ শতাংশ। শুধু তাই নয়, একদিনে খাতটির শেয়ার লেনদেন প্রায় ৬১ কোটি টাকা বেড়ে ১৪৭ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা গতকালের ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ২৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

একই ধারা ছিল ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে। খাতটির ২৩ কোম্পানির ২২টিরই বাজারদর বেড়েছে, অপরিবর্তিত বাকি একটির দর। খাতটির সার্বিক শেয়ারদর বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ। আর খাতটির লেনদেন সাড়ে ৩১ কোটি টাকা বেড়ে প্রায় ৮৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ লেনদেন ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া বীমা খাতের ৪৭ কোম্পানির মধ্যে ৩২টির দর বেড়েছে।

তিন আর্থিক খাতের বাইরে সার্বিক লেনদেনের চিত্রটা ছিল বেশ করুণ। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ছয় শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৩টির দর কমেছে। প্রকৌশল খাতের দুই শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৩০টির, ওষুধ ও রসায়ন খাতের পাঁচটির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৩টির, বস্ত্র খাতের দুটির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৪৩টির দর কমেছে। বাকি সব খাতে ছিল একই চিত্র। এর মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল শুধু সিমেন্ট খাত। খাতটির সাত শেয়ারের মধ্যে পাঁচটির দর বেড়েছে। পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গতকাল ১৫ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়, যার সবগুলোই আর্থিক খাতের। বিপরীতে ১৩ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়, যার সবগুলোই উৎপাদন ও সেবামুখী খাতের এবং সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক হারে দর বেড়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here