মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি, ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সন্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২১’ তুলে দেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ উদ্দিন আহমেদের পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তার স্বজনরা।

প্রয়াত এই বীর ১৯৩৩ সালে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন টাঙ্গাব ইউনিয়নের বাঁশিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ওই গ্রামের পুলিশ কর্মকর্তা মরহুম আব্দুর রহমানের সন্তান। কর্মজীবনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে গেছেন তিনি। এই কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি (মরণোত্তর) স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে তিনি ‘স্বাধীনতা পুরস্কার- ২০২১’ লাভ করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) খুরশিদ উদ্দিন ১৯৫৮ সনে আর্মি মেডিকেল কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি কুমিল্লা সিএমএইচ-এর অধিনায়ক ও ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক জীবনে দেশে-বিদেশে চারটি যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে অংশ নেন। সেগুলো হলো- ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানে রান অব কচ্ছ-এর যুদ্ধ, ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধ।

খুরশিদ উদ্দিন ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হিসেবে ১৯৬৮ সনের জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন ও পরে গণআন্দোলনে মুক্তি পান। তিনি ইস্টার্ন সেক্টরের অ্যাসিসিটেন্টে ডিরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ একাত্তরের নভেম্বরে বেলুনিয়ার যুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ২০১৩ সালের ২২ এপ্রিল পরলোক গমন করেন। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা সেনানিবাস কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here