করোনার রেডজোন যশোরের আতঙ্ক এখন সদর ও অভয়নগর উপজেলা ,শহরে লুকোচুরি : গ্রামে যাচ্ছেতাই অবস্থা

Share It
  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    10
    Shares

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর : সরকার নির্ধারিত করোনার রেডজোন যশোর জেলার আতঙ্কে পরিণত হয়েছে যশোর সদর ও অভয়নগর উপজেলা। এ দুই উপজেলায় হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। একদিনে অভয়নগরে ২১ জনের করোনা শণাক্তের খবর পাওয়াগেছে। এ নিয়ে অভয়নগরে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাড়ালো ৬৬ জন। আর যশোর সদর উপজেলায় একদিনে করোনা রোগী শণাক্ত হয়েছে ৮ জন।
এ নিয়ে যশোর সদরে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬৪ জন। আর জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা রোগী শণাক্ত হয়েছে ২১৭ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখন পর্যন্ত যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় সর্বোচ্চ করোনা রোগী শণাক্ত হয়েছে। আর জেলায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে যশোর সদর উপজেলা।
এদিকে শনিবার রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অভয়নগরে সর্বশেষ যে ১৩ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে তাদের নমুনা পাঠানো হয়েছিলো ১ জুন তারিখে বলে জানিয়েছে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র। ১২ দিন পর নমুনার রিপোর্ট আসায় অভয়নগর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শণাক্ত হওয়াদের অনেককেই এ কয়দিন স্থানীয়রা নওয়াপাড়া শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছেন। এদিকে অভয়নগরে লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড ও নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে মানুষের চলাচলের উপর কঠোর বিধি নিষেধ জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে এ বিধি নিষেধ বলবৎ হলেও তা মানছেনা সাধারণ মানুষ। প্রশাসন কঠোর ভুমিকায় অবতীর্ণ হলেও মানুষের মাঝে সচেতনতার অভাব থাকায় কোন নিয়ম নীতিই কার্যকর হচ্ছে না নওয়াপাড়া পৌরসভাসহ অভয়নগর উপজেলার কোন প্রান্তে। প্রশাসনের সাথে মানুষের যেন লুকোচুরি খেলা চলছে এমন দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের।
একই অবস্থা বিরাজ করছে যশোর শহরে। যশোর শহর ও শিল্প শহর নওয়াপাড়ার চিত্র একই বলে দাবি করেছেন উভয় এলাকার স্থানীয়রা। নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের কঠোর বিধি নিষেধের মধ্যে নওয়াপাড়া বাজারের কাঁচাবাজার, মাছবাজার, ওষুধের দোকান ও ফলের দোকানসহ সকল প্রকার দোকান পাঠ বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও দিনভর নওয়াপাড়া বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
অধিকাংশ দোকানীকে দোকানের সার্টার তুলে সামনে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। প্রশাসন বা ভ্রাম্যমান আদালত দেখলেই সার্টার টেনে দেয় আবার তারা চলে গেলেই আবারও পূর্বের চিত্র। অনেক দোকানে ক্রেতা ঢুকিয়ে বাইরে থেকে সার্টার বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। মাস্ক বিহীন বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কঠোরতার কথা বলা হলেও মাস্কের ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে দুইরকম চিত্র।
অধিকাংশ মানুষের মাস্ক আছে তবে তা মুখের পরিবর্তে থুতনিতে লটকানো। গুটি কয়েক লোক মাস্ক পরলেও অনেকের মুখে মাস্ক নেই। তবে কাউকে কাউকে দূর থেকে প্রশাসনের লোক আসতে দেখলে পকেট থেকে মাস্ক বের করতে দেখা গেছে। এ চিত্র কেবল অভয়নগরের নয়। যশোর শহরের দোকানীরাও প্রশাসনের সাথে লুকোচুরি খেলছে।
মাস্কের ব্যবহারে অধিকাংশের রয়েছে অনিহা। কারও মাস্ক থুতনিতে, কারও পকেটে আর গুটি কয়েকের মুখে। তাছাড়া যশোর ও নওয়াপাড়া শহরের অধিকাংশ দোকানীকেই মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। এদের প্রায় সবার মাস্কই থুতনিতে লটকানো থাকতে দেখা যায়। আর কাঁচা বাজার মাছ বাজারের দোকানীদের মাস্ক যেখানে সেখানে ফেলে রাখতে দেখা যায়।
কেবল প্রশাসন আসতে দেখলেই কোন মতে ময়লাযুক্ত ওই মাস্ক মুখে পরতে দেখা যায়। এদিকে নওয়াপাড়া পৌরসভা ও যশোর শহরসহ সর্বত্র ইজি ভ্যান, মাহেন্দ্র, ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে যাত্রী বহনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার যে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে তাও কেউ মানছেনা। ভ্যানে, নসিমনে, ইজিবাইকে গাদাগাদি করে যাত্রীদের হরহামেশা যাতায়াত করতে দেখা যায়।
এক কথায় স্বাস্থ্য বিধির কোন বালাই নেই এ অঞ্চলে। কেবল প্রশাসন বা সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেখলেই নড়েচড়ে বসে সবাই। স্বাস্থ্যবিধি মানতে যেন খুব ব্যস্ত তখন সকলে। এ লুকোচুরির মধ্য দিয়ে ভয়াবহ আকারে বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এতো গেলো শহরের চিত্র। গ্রামের চিত্র আরও ভয়াবহ। গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানগুলোতে সন্ধ্যা হলেই যেন মিলন মেলা বসে।
এক একটি চায়ের দোকানে সন্ধ্যার পর থেকে শতাধিক লোককে জটলা পাকিয়ে টিভি দেখা, তাস খেলা, লুডু খেলাসহ চা পান করতে দেখা যায়। আর এ চিত্র চলে সন্ধ্যার পূর্ব থেকে রাত ১০টা/১১ টা পর্যন্ত। তাছাড়া গ্রাম অঞ্চলে মানুষের মাঝে মাস্ক ব্যবহারের প্রবণতা নেই বললেই চলে। মাস্ক ব্যবহারে তাদের ভয়ানক আপত্তি।
এ ব্যাপারে কয়েকজনের সাথে কথা বললে তাদের উত্তর এরকম, “ ভাই মাস্ক পরে দম বন্ধ হয়ে আসে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আল্লায় যদি করোনা রোগ দেয় মাস্কে আটকাতে পারবেনা।” এদিকে ভয়াবহ এ অবস্থায় চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সচেতন মহল।
মহামারীর ভয়াবহ বিস্তারের আশংকা করেছেন তারা। বিশেষ করে অভয়নগর ও যশোরে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যাপকহারে করোনা আক্রান্ত হওয়ায় এ শঙ্কা আরও বহুগুনে বেড়ে গেছে। ফলে এ দুই উপজেলায় কঠোর লকডাউন দাবি করেছেন সচেতন মহল।

Share It
  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    10
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here