চাকরির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সেই মুক্তিযোদ্ধার ছেলের,হুইপের সিদ্ধান্ত চান তারা

Share It
  • 120
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    120
    Shares

মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অবহেলা ও তাঁর ছেলেকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় অসিয়ত মোতাবেক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন হওয়ার এক দিন পর বাবার মতোই প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা প্রশাসকের দেওয়া চাকরির প্রস্তাব ফেরত দিয়েছেন তাঁর ছেলে। ছেলে নূর ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্মানটুকু না নিয়ে আমার বাবা বিদায় নিয়েছেন। এমন প্রশাসনের দেওয়া চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই।

অপরদিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন হওয়ার ঘটনায় বিভাগীয় কমিশনারের গঠিত তদন্ত কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছে। কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় যারাই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইচ্ছানুযায়ী রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন হওয়া মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের ছেলেরা ও স্ত্রী নুর নেহার বেগম ওই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চেয়েছেন। স্ত্রী নুর নেহার বেগম বলেন, ছেলেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যার কারণেই স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। এ ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম মরহুম সেই মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে যান। এ সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী নুর নেহার বেগম ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নুর ইসলামকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং সরকারি যে বাড়িতে থাকতেন সেখানেই তিনি থাকবেন বলে জানান।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে ওই বাড়িতে গিয়ে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে চাকরিহারা নূর ইসলাম ও তাঁর বড় ভাই নুরুজ্জামানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তাঁরা বলেন, ‘জেলা প্রশাসক এসেছিলেন। আমরা তাঁকে সম্মানের সঙ্গে কথা বলে বিদায় দিয়েছি। তিনি চাকরি ও বাড়ি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বলেছেন। আমরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে—জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের সুপারিশে চাকরি হয়েছিল, আর জেলা প্রশাসক চাকরি খেয়েছেন। এখন আমরা হুইপের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছি।’

নুরুজ্জামান বলেন, ‘জেলা প্রশাসক আমার ভাইকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু ওই চাকরি আমরা গ্রহণ করব না। কারণ দুই মাস পর আবার আমার ভাইকে চাকরিচ্যুত করা হতে পারে। তা ছাড়া আমার বাবার প্রতি চরম অবহেলা করা হয়েছে। আমরা সরকারের প্রতিনিধি হুইপ ইকবালুর রহিমের দিকে চেয়ে আছি, তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই আমরা মেনে নিব। আমার বাবা জীবদ্দশায় যার সাক্ষাৎ পাননি, মরণের পরেও যাদের কারণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা গ্রহণ করেননি, তাদেরকে আমরা মাফ করার কে?’

এ সময় চাকরিহারা নূর ইসলামের স্ত্রী রুবিনা বেগম বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যা করা হয়েছে তা আগে সিনেমায় দেখতাম। আমি আমার জীবনে বাস্তবে দেখেছি। আমি দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় আছি, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

গতকাল শনিবার দুপুরে বিভাগীয় কমিশনার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. জাকির হোসেন ঘটনা তদন্তে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে যান।

উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা আগে একটি চিঠিতে জেলা প্রশাসন অন্যায়ভাবে তাঁর ছেলের চাকরি কেড়ে নিয়েছে অভিযোগ করে প্রতিবাদস্বরূপ তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করতে বলে যান। ছেলে হঠাৎ চাকরিচ্যুত হওয়ায় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথা জানান। হুইপ ইকবালুর রহিম বরাবর চিঠি লেখার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গত ২৩ অক্টোবর মারা যান এই মুক্তিযোদ্ধা।


Share It
  • 120
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    120
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here