জটিলতায় পড়তে যাচ্ছে ভ্যাট নিবন্ধনহীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

ভ্যাট নিবন্ধন হালনাগাদ করার (৯ সংখ্যার স্থলে ১৩ সংখ্যার নিবন্ধন) জন্য সরকার সময়সীমা বাড়ালেও তাতে কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি। প্রথম দফায় যেসব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতায় এসেছিল, হালনাগাদের সময়সীমা শেষ হয়ে এলেও এর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে পেরেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নিবন্ধনের আওতার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে এনবিআর। প্রাথমিকভাবে সময়সীমা আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিবন্ধনহীন ঐসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাংকগুলো কোন ধরনের ঋণপত্র ইস্যু করতে পারবে না। ফলে আটকে যাবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। কোনো ধরনের দরপত্র কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না। শুল্ক স্টেশনগুলোতেও এক ধরনের ‘কালো তালিকাভুক্ত’ হয়ে যাবে। অর্থাত্ নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা কার্যত কঠিন হয়ে যাবে তাদের।

সরকার গত জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করেছে। নতুন আইন অনুযায়ী, অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতি মাসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এর আগের ব্যবস্থায় সত্ত্বেও অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতায় আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ‘সক্ষম’ প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতায় আনতে সরকার গত বাজেটে কিছু সিদ্ধান্তও নিয়েছে। তা সত্ত্বেও নিবন্ধন সংক্রান্ত কিছু বিধিবিধানের জটিলতায় নতুন ব্যবস্থার নিবন্ধনে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।

এনবিআরের ভ্যাট নিবন্ধন কার্যক্রমটি দেখভাল করছে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প অফিস। এই প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, গতকাল নাগাদ নিবন্ধন হালনাগাদ করেছে প্রায় ৬৫ হাজার প্রতিষ্ঠান। আর এর আগে ৯ সংখ্যার নিবন্ধন নিয়েছিল ১ লাখ ৭২ হাজার প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া নিবন্ধ হয়েছিল; কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় ঐসব ভুয়া কিংবা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নিতে পারছে না। তবে এখনো সক্ষম অনেক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতায় আসেনি। ফলে পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম কিংবা আমদানি-রপ্তানিতে সমস্যায় পড়তে পারে। তবে সময় আর বাড়ানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, নতুন পদ্ধতির নিবন্ধনে তাদের অনেক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। আবার এনবিআরের কিছু পরিবর্তনের কারণে অনলাইনে এক অফিসের আবেদন অন্য অফিসে চলে যাচ্ছে। ঐ অফিস যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে আবেদন পাঠাচ্ছে না। এসব কারণে অনেক সময় আবেদন করার পর ক্ষেত্রবিশেষে ১ মাসেরও বেশি সময় ঝুলে থাকছে। অথচ আবেদনের তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার কথা। অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোর কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে এই ইস্যুতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের নামে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও এসেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ভ্যাট নিবন্ধনে হয়রানি না করা কিংবা অহেতুক দেরি না করতে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে এনবিআর। এনবিআরের নির্দেশনায় বলা হয়, আবেদনের পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম যাচাই করে নিবন্ধন দেওয়া কিংবা না দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ কারণ জনাতে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোদমে নিবন্ধনের আওতায় না আসায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়েও। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দৃশ্যমান। এ নিয়ে সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই থেকেও কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here