টানা বর্ষণে ভূমিধস-আতঙ্কের মধ্যেই পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

টানা বর্ষণে ভূমিধসের আতঙ্ক কাটেনি রাঙামাটিবাসীর। কিন্তু তারপরও থেমে থাকেনি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস। অপরদিকে অতীতে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের বাস্তবায়নের দাবি সুশীল সমাজের। প্রাণহানি ও ভূমিধস এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানালেন প্রশাসন। 

তিন বছর আগে রাঙামাটিতে টানা বর্ষণে ভূমিধসে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় রাঙামাটি শহরসহ উপজেলাগুলো। বন্ধ হয়ে যায় দেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ। ব্যাপক ক্ষতি হয় কৃষি জমি ও ঘরবাড়ির। কিন্তু তারপরও রোধ করা যায়নি বসতি স্থাপন। যেখানে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটেছে, সেসব এলাকায় আগের চেয়ের দ্বিগুণ গড়ে উঠেছে বসতি। তবে বাধ্য হয়েই তাদের বসবাস করতে হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এক নারী বলেন, পাহাড়ের মধ্যে থাকি; ভয় তো লাগেই।

আরেকজন বলেন, আমরা এখান থেকে নিজেরা চাইলেই তো যেতে পারবো না। সরকার আমাদের কোনোদিকে নিয়ে যদি ভালো কিছু করে দেয় তাহলে ভালো হয়।

এ অবস্থায় আইন প্রয়োগে কঠোরতা ও পাহাড় ধসে গৃহীত সুপারিশমালার বাস্তবায়ন চায় সুশীল সমাজ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজের সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, আমরা যে দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছিলাম সেখান থেকে বের হতে হলে বিশেষজ্ঞরা যেভাবে বলেছেন সেভাবে আমাদের দ্রুত উদ্যোগ নেয়া দরকার।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান বলেন, এদের এখান থেকে সরানোর ব্যাপারে এখন সবাই মিলে কাজ করা উচিৎ।

চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, তাদের বাসা বানানোর যে পরিকল্পনা পাস করতে হয় সেখানে কড়াকড়ি দরকার। এর সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

প্রাণহানি ও ভূমিধস এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানালেন জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে আমরা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিচ্ছি। জনগণকে সচেতন করার জন্য লিফলেটও বিতরণ করছি।

এতে সন্তুষ্ট জনপ্রতিনিধিরাও। সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে শুনলাম তিনি কি কি উদ্যোগ নিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, পৌর এলাকায় ৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসহ জেলায় ঝুঁকিতে বসবাস করছে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার।


Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here