নারীর মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধে নারী

Share It
  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    19
    Shares

মুক্তিযোদ্ধের সময় অনের পরিবারের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিতে এই পরিবারগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমাদের পরিবারও জড়িত ছিল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে। পরিবারের দুজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। একজন আমার মা রোবায়দা হোসেন অন্যজন ছোট চাচা প্রয়াত মহিউদ্দীন মিয়া। বন্দুক চালিয়ে যুদ্ধ না করেও তারা যুদ্ধ করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও আজ অনেকেই বড় বড় মুক্তিযোদ্ধা সেজে বসে আছেন। যেন বীজ বুনে ভুই ফুড়ে গজিয়ে ওঠা কোনো ব্যাপার নয়! নকলের ভিড়ে ঢাকা পড়েছেন প্রকৃত অনেক মুক্তিযোদ্ধা। দুঃখের বিষয়, এই জায়গাতেও আমাদের সততা নেই। ১৯৭১ সালের ভয়াবহ মুক্তিযুদ্ধের কথা ছোট-বড় সকলের মনে থাকার কথা। কম-বেশি সকলেরই অন্তরের গভীরে গাঁথা থাকার কথা সেই ভয়াবহ ব্যথার দিনগুলো। আশপাশের মানুষদের কার কতটুকু অবদান ছিল, কারা যুদ্ধ করেছেন বা করেননি অন্তত এটা কারো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

মনে করি, আমার মা আর চাচা তারা দুজনেই মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধ চলাকালে পাঁচটি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে বুড়ো শ্বশুর-শাশুড়ি দেবরদের নিয়ে তার ছিল ভরা সংসার। বাবা থাকতেন ঢাকায়। মাকে দেখেছি নিজের হাতে সবকিছু একাই সামাল দিতে। তার চলার গতি দেখে সকলে অবাক হত। যেন গোয়ালন্দ ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া খুলনাগামী মেইল ট্রেনটির মতো দ্রুত। কখনও থেমে থাকতে দেখিনি তাকে। মায়ের কাজকর্ম দেখে কখনও আবার মনে হত অথৈ সাগরে ফুরফুরে একখানা ময়ূরপঙ্খি নাও! একাই সমস্ত বোঝা কাঁধে নিয়ে ভেসে বেড়াতেন বিরতিহীন।

মায়ের মতো এমন শক্ত হাতে সংসারের হাল ধরতে খুব কম মানুষকে দেখেছি। তিনি নিপুণ বুদ্ধি দিয়ে সকলকে আগলে একহাতে গুছিয়ে সংসার করেছেন। অন্যদিকে আমার চাচা ছিলেন খুবই শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ। মাকে ভয় পেতেন খুব। দাদি সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। পড়ালেখা বুঝতেন না তেমন। তিনি বলতেন, পড়াশোনা দিয়ে কী হবে, আমাদের কি কোনোকিছুর অভাব আছে! তাই চাচার পড়াশোনার ভার মা নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। মা যখন বউ হয়ে আসেন তখন চাচা খুব ছোট। তার যে কোনো কথা মায়ের সঙ্গে শেয়ার করতেন। কথা বলতেন খুব কম কিন্তু ভেতরে ভেতরে কাজ করতেন অনেক! প্রথমে ভেবেছিলাম শুধু মুক্তিযোদ্ধা মাকে নিয়ে লিখব। আলোকপাত করব মুক্তিযোদ্ধা নারীকে নিয়ে।

তথ্যের জন্য কল করলাম শ্রদ্ধেয় মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেনকে। আমার মা স্ট্রোক করে এখন অনেককিছু স্মরণ করতে পারেন না। সেই কারণে তাকে ফোন করা। তার কাছ থেকে অনেক অজানা বিষয় বেরিয়ে এল। তিনি আমার চোখের পর্দা পুরো খুলে দিলেন। আফজাল হোসেন আর আমার ছোট চাচা দূরসর্ম্পকের খালাত ভাই। দুজন বন্ধু, গলায় গলায় ভাব। সেই সুবাদে তিনিও মায়ের আরও একটি দেবর, সারাক্ষণ আমাদের বাড়িতেই থাকতেন। বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ভেসে এল মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেনের কণ্ঠ। তিনি বললেন, মুক্তিযুদ্ধে তোমাদের পরিবারের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। তোমার মা আর চাচা আমাদের আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে রাখতেন। ওখান থেকে নিয়ে আমরা ব্যবহার করতাম। তোমার বাবা এবং তোমাদের পুরো পরিবার সেই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেছেন বিভিন্নভাবে। বিশেষ করে তোমার মা ও চাচার অবদান অনেক।

আফজাল কাকার মুখে কথাগুলো শুনে মনটা গর্বে ভরে গেল। নিজের আবছায়া স্মৃতির সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা আফজাল কাকার কথায় মিলেমিশে সবকিছু চকচক করে ভেসে উঠল। প্রত্যন্ত গ্রামে তখন আধুনিকতার আলো ছিল না। পুরো গ্রামে মা ছিলেন জ্বলজ্বলে একটি হীরকখণ্ড। তার চলাফেরা কথাবার্তা ছিল মাধুর্যে ভরা। যেন বিকেলের সোনা রোদে চকচকে এক চিলতে তৃপ্তিভরা উঠান। গ্রামসুদ্ধ মানুষ মাকে খুব পছন্দ করত। কোথায় কী ঘটছে সমস্ত খবরাখবর মায়ের মুখস্ত থাকত। বিভিন্নভাবে গ্রামের সাদামাটা মানুষকে সাহায্য করতেন নিজের যা আছে তা দিয়ে।

সকলকে সাহস জোগাতে পিছপা হননি কখনও। বুদ্ধি দিয়ে ভয়কে জয় করতে দেখেছি, ভেঙে পড়তে দেখিনি কখনো। সাধারণ গৃহিণী হয়েও অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিলেন ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে। সেই সময় গ্রামের আর দশজন মহিলাদের চেয়ে তিনি ছিলেন ভিন্ন। সংগ্রামে বিশ্বাসী এক আদর্শবান নারী। সেইসময় তাদের ভূমিকা অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধার মতোই। অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার সরবরাহ করা, অসহায় হিন্দু পরিবারকে নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রাখতেন।

মুক্তিযুদ্ধকালে খালা-মামারা সকলে ঢাকায় থাকতেন। তাদের চিন্তায় বাড়িসুদ্ধ মানুষকে দেখেছি দিশেহারা হতে। ঢাকায় ধরপাকড়, হত্যা শুরু হয়েছে। জ্বালাও-পোড়াও খবর আসতে শুরু করেছে। তবুও মাকে কখনো কেঁদে বুক ভাসাতে দেখিনি। চিন্তা করতে দেখেছি অনেক। সেটা কাউকে বুঝতে দিতেন না। পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচারে লাখ লাখ মানুষ ঢাকা থেকে বের হতে শুরু করল। পায়ে হেঁটে ট্রাকের পেছনে বসে বাড়ি ফিরতে লাগল মানুষ। সেই সময় বাবা আমার দুই খালা-মামা আর ভাইকে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলেন। মনে পরে তাদের বাড়ি ফিরতে চার-পাঁচ দিন সময় লেগেছিল। হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ফোসকা পড়ে ফুলে গিয়েছিল। অমানবিক পরিশ্রমের পর জান নিয়ে অবশেষে বাড়ি এসে পৌঁছেছিলেন তারা।

বাবা ঢাকা থেকে ফেরার পরে আমাদের বাড়িতে যেন আনন্দের বন্যা বইতে লাগল। ঢাকার খবরাখবর জানার জন্য দলে-দলে আরও লোকজন বাড়িতে ভিড় করতে লাগল। মা তাদের আপ্যায়ন করতেন চা মুড়িমাখা মটরশুঁটি ছোলা ভাজাভুজি দিয়ে। মায়ের চা তৈরি করার জন্য পিতলের খুব সুন্দর ছোট একটি স্টোভ ছিল। সেটি জ্বালাতে হত পাম্প করে তারপর ম্যাচের কাঠির আগুন দিতেই গমগম করে জ্বলে উঠত। যতক্ষণ জ্বলত ততক্ষণ ফুসফুস করে একটা শব্দ হত। চা বানাতে মাকে কখনো রান্নাঘরে যেতে দেখিনি। ঘরে বসে খুব যত্ন করে সেই সুন্দর কেরোসিনের চুলাটিতে চা বানিয়ে সকলকে পরিবেশন করতেন।

খুব সুন্দর ব্যক্তিত্বের অধিকারী আমার মা। সেই নীরব যোদ্ধারা কোনো মূল্যায়ন পাননি। বরাবরের মতোই আড়ালে থেকে গেছেন। অথচ বিভিন্ন জেলায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভাব নেই। তাদের এখন মানুষ চেনে বড় মুক্তিযোদ্ধা (!) হিসেবে। নাম বলব না, এমন একজন মানুষ যুদ্ধের সময় অপকর্ম করে বিবস্ত্র অবস্থায় মানুষের তাড়া খেয়ে আমাদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ছোট চাচার লুঙ্গি পরিয়ে তাকে আমার মা সপ্তাহ দুয়েকের মতো লুকিয়ে রেখে বাঁচিয়েছেন। তারা এখন সমাজের নামীদামি ব্যক্তি। এসব দেখে মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। সত্য ঘটনাগুলো কেমন করে মিথ্যার কাছে পরাজিত হয় সেটাও দেখতে হচ্ছে। চোখের সামনে এসব যখন দেখি, বেশি করে মায়ের অবদান জ্বলজ্বল করে ওঠে। আমার মা-বাবা গ্রামের মানুষদের খুব ভালোবাসতেন।

১৯৭১ সালেও মানুষের পাশে ছিলেন আমাদের পরিবার। বিশেষ করে মায়ের কথা ছিল মরতে হলে লড়াই করেই মরব। সেই সময় আমাদের বাড়িটি ছিল মানুষের মিলনমেলা। খবর শোনার জন্য ছুটে আসত সকলে। খবরের কিছুক্ষণ পরপর রক্ত টগবগ করা গান বেজে উঠত। পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল রক্ত লাল, তীরহারা ওই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে, সালাম সালাম হাজার সালাম…। এমন অনেক কালজয়ী গানে মানুষের গায়ের পশম দাঁড়িয়ে যেত। ইতিহাস কখনও হারিয়ে যায় না। একদিন না একদিন কথা বলবেই।

ছোট হোক আর বড় হোক সুপ্ত আগ্নেয়গিরি যেমন একসময় তাজা হয়ে ওঠে। তেমনি মুক্তিযুদ্ধের কথা ত্যাগী মানুষের কথাও। হাজার বছর পরে হলেও কার অবদান কী ছিল তা জেগে উঠবে, কথা বলবেই। আমার মনেও সেই সুপ্ত থাকা আবছায়া স্মৃতি মুক্তোদানা বেঁধে জেগে উঠেছে। মনে হল, চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা লিখে রাখি না কেন! মায়ের মূল্যায়ন সন্তান হিসেবে আমাকেই করতে হবে। নইলে কথাগুলো মানুষের কাছে অজানা রয়ে যাবে।

গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আমার মনকে এখনো আপ্লুত করে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে চারিদিক সুনসান হয়ে যেত। একদিকে মিলিটারিদের ভয়। রাতের আঁধারে আক্রমণ করে বসে কিনা। অন্যদিকে গ্রামে ডাকাত দলের উৎপাত। রাতের বেলা গ্রামের ছেলেরা পালা করে পাহারা দিত। রাতে কুকুরের মরাকান্না, আখ খেতে থেকে ভেসে আসা শেয়ালের ডাক সবকিছু মিলিয়ে বড়দের মধ্যেও সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করতে দেখেছি। ভয়ে ছোট মন কুঁকড়ে যেত। ঢুলুঢুলু ঘুম চোখ নিয়ে ভাবতাম রাতে ঘুমাব না। চোখ খুলে রাখব যাতে করে কোনো বিপদ এলে দৌড়ে পালাতে পারি। ছোট হলে কী হবে, জ্ঞান-বুদ্ধি মন্দ ছিল না। পরিবারের বড়দের ফিসফাসে সব বুঝে যেতাম। কী পরিমাণ আতঙ্কের মধ্য দিয়ে তারা জীবন অতিবাহিত করেছেন।

বাড়িতে অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের আনাগোনা করতে দেখেছি। তাদের মধ্যে কিছু মুখ আমার খুব চেনা। শ্রদ্ধেয় মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, আফজাল হোসেন, তমিজউদ্দীন, সিদ্দিকুর রহমান সাদেক, খুশী, জামাল, উম্বাড়, সফি, আকবর মিয়া, প্রয়াত আজিজুল সরদার। যুদ্ধ করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা খুশী শহীদ হন। এদের মধ্যে কমান্ডার ছিলেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। তিনি পরে আমার ননদ জামাই হয়েছিলেন। শুনেছি তুখোড় কমান্ডার ছিলেন। আমাদের বাড়ির কাচারি ঘরে বৈঠক বসাতেন এরা। ফিসফাস করে কথা বলতে দেখতাম।

এদের মধ্যে দু’একজন বাদে প্রত্যেকেই ছিলেন আমার ছোট চাচা মহিউদ্দীন মিয়ার বন্ধু। সেই সুবাদে সকলেই মাকে ডাকতেন ভাবি। চাচার সুবাদে এরা মুক্তিযুদ্ধের তৎপরতা, কর্মকাণ্ড চালাতেন আমাদের বাড়িতে বসে। তাদের সব রকমের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ছোট চাচা মহিউদ্দীন মিয়া ও মা রোবায়দা হোসেন।

আরও অনেকেই আসতেন আমাদের বাড়িতে। তাদের সবার নাম মনে করতে পারছি না। কিছু নাম আমার অজানা। মা আর চাচাকে দেখেছি মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল সরদার ও আফজাল হোসেনের দেওয়া গ্রেনেড বন্দুক রান্নাঘরে খড়ের মাচায় লুকিয়ে রাখতে। আবার তারা সময়মতো এসে নিয়ে তা নিয়ে যেতেন। ঘরের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের লুকিয়ে তাদের ভাত খাওয়াতেন। অনেকে ছোট চাচার ঘরে এসে ঘুমাতেন। বিশ্রাম নিয়ে আবার চলে যেতেন। তাদের পাহারা দিতেন মা ও ছোট চাচা। বাড়ির দক্ষিণ ভিটার ঘরখানাতে থাকতেন ছোট চাচা। সেই ঘরে ফিসফাস করে কী যেন বলতেন তারা। টিনের ফাঁক দিয়ে লুকিয়ে দেখতাম কালো রঙের থ্রি নট থ্রি বন্দুক তেল দিয়ে পরিষ্কার করতে। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আজিজুল মামা বেশিরভাগ সময় আমাদের বাড়িতেই থাকতেন। মাকে বুবু বলে ডাকতেন তাই আমরা তাকে মামা বলে ডাকতাম। ধরা যেতে পারে অত্র এলাকায় আমাদের বাড়িটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ছোটখাটো একটি ক্যাম্প।

মনে পড়ে, উঠানের কোনায় বড় গর্ত খুঁড়ে বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছিল। আকাশে প্লেন উড়তে দেখলেই সকলে ওটার মধ্যে গিয়ে লুকিয়ে থাকতাম। তবে একটি ঘটনা শোনার পর খুব ভয় লাগত ওটার মধ্যে ঢুকতে। মেজো চাচার আনা খবরে জানা গেল কোনো এক বাড়িতে নাকি মিলিটারিদের ঢুকতে দেখে বাড়ির লোকজন সব গর্তে লুকিয়েছিল। পরে তাদের সকলকে ওই গর্তের মধ্যেই গুলি করে হত্যা করেছিল পিশাচরা।

আশপাশে যত হিন্দু পরিবার তাদের সকলকে আশ্রয় দিয়েছিলেন মা। মনে পরে বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবার তাদের ধান চাল দাদির ঘরের পেছনে গর্ত খুঁড়ে লুকিয়ে রেখেছিলেন। দেখতাম কয়েক দিন পরপর তারা এসে খাবার নিয়ে যেতেন। মা ছাড়া পরিবারের সকলে ছিলাম ভিতু প্রকৃতির। বিশেষ করে মেজ চাচা বলতেন, ভাবির কারণে আমরা সকলেই মারা পড়ব এবার। মেয়েমানুষ থাকবে মেয়েমানুষের মতো, এতসব ঝামেলার মধ্যে যাওয়ার দরকার কী!

পরিস্থিতি যখন আরও খারাপ হল তখন কিছু পরিবারকে বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিলেন মা। তার জন্য আমার দাদিও মাকে অনেক বলতেন তোমার জন্য আমরা সকলে মিলে মরব। এখন ভাবি দাদি তার পরিবার রক্ষা করার জন্য ওসব বলতেন। তবে মায়ের এসব কাজে তার ভূমিকাও কম ছিল না। মনে পড়ে, কয়েকটি হিন্দু পরিবারকে দাদির ঘরেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। দাদি জানতেন তার বউমা এসব কাজে অনড়। বললেও নিরস্ত হবে না।

চলবে…

ডিনা চৌধুরী : প্রবাসী লেখক


Share It
  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    19
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here