নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে দুধ নিয়ে গবেষণার তথ্য দিয়েছেন অধ্যাপক ফারুক

বাজারে পাওয়া পাঁচটি কোম্পানির সাতটি ব্র্যান্ডের দুধের ওপর করা গবেষণার তথ্য অবশেষে আজ রবিবার (৭ জুলাই) নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যারয়ের কয়েকজন শিক্ষক এ গবেষণাটি করেন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও অধ্যাপক ফারুকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গবেষণার তথ্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন অধ্যাপক ফারুক। এর আগে সংস্থাটির পক্ষ থেকে একটি চিঠি দিয়ে গবেষণার তথ্যগুলো চাওয়া হয়। তারই প্রেক্ষিতে তিনি সেগুলো তাদের কাছে পাঠিয়েছেন।

অধ্যাপক ফারুক প্রথম দফায় দুধ পরীক্ষার ওপর যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তাতে এসব ব্র্যান্ডের দুধে ৩ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার কথা জানান। এ তথ্যে সরকারসহ সব মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে ৭ দিনের মধ্যে গবেষণার তথ্য চেয়ে অধ্যাপক ফারুককে একটি চিঠি দেয়   নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফায় দুধ পরীক্ষা করেন তার নেতৃত্বে গবেষক দল। গত সপ্তাহে ওই একই ব্র্যান্ডের দুধের নমুনা একই জায়গা থেকে সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। আর তাতে পরেরবার মোট ৪টি করে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়। সবগুলো নমুনাতেই পাওয়া অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে আছে – অক্সিটেট্রাসাইক্লিন,  এনরোফ্লক্সাসিন,  সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লেভোফ্লক্সাসিন। এর মধ্যে প্রথম পরীক্ষায় ছিল না এমন নতুন যে দুটি অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে তা হলো-অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও এনরোফ্লক্সাসিন।

সাতদিনের মধ্যে তথ্য না আসায় আজ রবিবার (১৪ জুলাই) আবারও অধ্যাপক আ ব ম ফারুককে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। তবে এরইমধ্যে গবেষণার তথ্য সংস্থাটির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন অধ্যাপক ফারুক।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চিঠিতে জানতে চেয়েছিল –কোথায় পরীক্ষা করেছি, কিভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে, কোন পদ্ধতিতে করা হয়েছে। আমি তাদেরকে সব পাঠিয়ে দিয়েছি। আজকে পেয়ে যাওয়ার কথা। যেভাবে যেভাবে যা চাওয়া হয়েছে সবই আমি তাদের কাছে পাঠিয়েছি।

এদিকে, অধ্যাপক ফারুকের পাঠানো তথ্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে এসে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির পরিচালক আবু শহীদ সালেহ মোহাম্মদ জুবেরি। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা অধ্যাপক ফারুককে একটি চিঠি দিয়েছিলাম। তিনি যে গবেষণা করেছেন তার প্রাপ্ত তথ্যগুলো আমরা চেয়েছিলাম। তিনি কোন পদ্ধতিতে করেছেন, তার একচ্যুয়াল ফাইন্ডিংসের আমরা একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছিলাম। উনি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। আজকেই আমরা রিসিভ করেছি। আমরা বিষয়টি দেখছি। আমাদের একটি টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ আছে। তাদের কাছে প্রতিবেদনটি দেবো। তাদের অভিমত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো আমরা।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here