নেই সরঞ্জাম, বিস্কুট-জল খেয়েই ১২-ঘন্টার শিফটে করোনার সাথে লড়ছেন মুম্বাইয়ের ডাক্তারেরা!

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মহারাষ্ট্রে এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১২৫-জন। সংখ্যাটি ঊর্ধ্বমুখী। মুম্বাই এখন আতঙ্কে আছে, মানুষ আছে আইসোলেশনে। মুম্বাইয়ের কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হসপিটাল ওই শহরের সেই দ্বিতীয় হাসপাতাল যেটি কোভিড-১৯ নির্ণায়ক পরীক্ষা শুরু করে। এই হাসপাতালের বহু ডাক্তার সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানিয়েছেন যে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে তাঁদের কাজ করতে হচ্ছে, করোনা সংক্রমণ রোখার জন্য জরুরি প্রোটেক্টিভ গিয়ার যেমন মাস্ক, শরীর ঢাকা পোশাক এবং গ্লাভস ছাড়া। দীর্ঘ শিফটে কাজ করার ফলে খাওয়ার সুযোগটুকু তাঁরা পাচ্ছেন না। এভাবে সাহসে ভর দিয়ে, কোন প্রত্যাশা রেখে নয়, শুধু নৈতিক দায়িত্ববোধ বুকে নিয়ে কাজ করছেন যে চিকিৎসকেরা তাঁরা বয়সের নিরীখে নয়, যোগ্যতার জোরেই প্রণম্য।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি পোস্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ওই পোস্টের মাধ্যমে জানা যায় যে কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হসপিটালের রেসিডেন্ট চিকিৎসকেরা ঠিক মতন খেতে পাচ্ছেন না। ক্যান্টিন এবং মেসে পর্যাপ্ত রসদ পৌঁছচ্ছে না। ফলে, মাঝরাতে বিস্কুট এবং জল খেয়ে নৈশাহার সারছেন চিকিৎসকেরা। এই পোস্টটি চোখে পড়তেই তাজ হোটেল মুম্বাই ওই চিকিৎসকদের জন্য খাবারের প্যাকেট পাঠায়। চিকিৎসকদের মধ্যে কয়েকজন রতন জি টাটা, তাজ  হোটেল এবং সঞ্জীব কাপুরকে খাবারের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্ট দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ফেসবুকে একজন চিকিৎসকের পোস্ট থেকে জানা যায়, “চা বা কফিও এখানে পাওয়া যাচ্ছিল না। আমাদের সামনে ছিল একটি ১২-ঘন্টার শিফট, মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ, ভোরবেলা অবধি। পেট খালি থাকলেও কাজ করতেই হবে!! আমরা পরস্পরকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলাম, বলছিলাম, “ছাড় না, দেখা যাবে”, এই বলে পার্লে জি বিস্কুট আর জল খেয়ে কাজে নেমে পড়লাম যা আমাদের কাছে অমৃতের সমান ছিল।”

সমস্যা অবশ্য শুধু খাদ্য নিয়ে নয়। তারচেয়ে বড় সমস্যা এই যে চিকিৎসকদের কাছে নেই এন-৯৫ মাস্ক। টুইটারে একজন চিকিৎসক টুইট করে জিজ্ঞেস করেছেন, “কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হসপিটালের রেসিডেন্ট চিকিৎসকেরা এখনো অবধি এন-৯৫ মাস্ক পাননি। এই চিকিৎসকদের মধ্যে যদি অসুস্থদের থেকে সংক্রমণ হয় তাহলে সেই দায়ভার কার?”

মহারাষ্ট্র অ্যাসোসিয়েশন অফ রেসিডেন্ট ডক্টরসের প্রধান, ডঃ কল্যাণী ডোঙ্গরে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখে জানিয়েছেন, “চিকিৎসকেরা পর্যাপ্ত মাস্কের অভাবের জন্য ৩-৪ দিন ধরে একই মাস্ক ব্যবহার করছেন। এটা তাঁদের স্বাস্থ্যের পরিপন্থী।”

চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানানো যথেষ্ট নয়। তাঁরাই আজ গড়ে তুলেছেন করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার প্রাচীর। তাই, তাঁদের সুরক্ষার দাবিতে আমাদের সকলকেই দাঁড়াতে হবে তাঁদের পাশে। আশা রাখি আগামী দিনে প্রত্যেক রাজ্যে চিকিৎসকেরা তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরঞ্জাম এবং খাদ্য পাবেন। আসলে, তাঁরা ভাল না থাকলে যে গোটা দেশের স্বাস্থ্যহানি ঘটবে!

 


Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here