১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬, স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির মহোৎসবের কাল। সাগরসম ত্যাগ আর লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার মূল্যবোধ আর চেতনাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির পদ অলংকৃত করেছেন দেশ বিরোধীরা, জাতীয় পতাকা নিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়িয়েছেন সেই সব ঘৃণিত পৈশাচিকের দল যারা রাজাকার, আলবদর আর আল শামস প্রতিষ্ঠিত করে ১৯৭১ এ স্বাধীনতাকামী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে, আর মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক লাখো লাখো পরিবারের মা-বোনদেরকে পাক হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছিল।

নিকটজন হারানো দুঃসহ বেদনায় ভারাক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা একুশটি বছর নিকৃষ্টদের এই আস্ফালন প্রত্যক্ষ করেছে, স্বাধীন দেশে স্বাধীনতার সুফল হারিয়ে দিনরাত হাহাকার করেছে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আশায় বুক বেঁধে স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকে নির্যাতিত, নিপীড়িত স্বজন হারানো লাখো লাখো পরিবার।

২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠা, তাদের এই প্রত্যাশাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যার শাসনামলে আপনার মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্তি এ যেন প্রত্যাশার মাঝে আলোর ঝলকানি।

জননেত্রীর নেতৃত্বে আপনার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পেলেও ১৯৭১ এ স্বজন হারানো বহু মানুষ এখনো আকাশপানে চেয়ে হৃদয়ের দহনে কাতর হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী আর স্বাধীনতার সুবর্ণ-জয়ন্তীতে ও তাদের হাহাকার দেখার আজও যেন কেউ নেই। এমন কিছু মানুষদের গল্প নিয়েই আপনার সমীপে আজ আমার বিনীত আর্জি মাননীয় মন্ত্রী!

প্রায় দু’ লক্ষাধিক মুক্তিযোদ্ধা তাদের বীরত্বের জন্য আজ সম্মানি ভাতা পাচ্ছেন। অনেক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সরকারি সুযোগ সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে দেশ সেবায় অবদান রাখছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কি জানেন পাক হানাদারদের হাতে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে যাওয়া অনেক বীর বাঙালির সন্তানরা আজও শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি?

মো. মাহমুদ হাসান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here