দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম বজলুর রহমান। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য তাকে মরণোত্তর সম্মান দেওয়া হলো। বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর বজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধকালীন বলিষ্ঠ সংগঠক ছিলেন। দেশের জন্য বিভিন্ন সময় তিনি কারাবরণ করেছেন, হয়েছেন নির্যাতনের শিকার। রেখে গেছেন সুযোগ্য সন্তান। এ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এখনো দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে চলেছেন। তার ছেলে মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গণভবনে বৃহস্পতিবার সকালে (২০ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে প্রয়াত বজলুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন তার সহধর্মিণী ও এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমানের মা শাহানারা বেগম। ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২১’ প্রদান অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ার ইসলাম নাম ঘোষণার পর পুরস্কারপ্রাপ্তদের ও তাদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক তুলে দেন সরকারপ্রধান।

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা পুরস্কার দিচ্ছে সরকার। এবার ৯ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে এ সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করা হলো।

স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত একেএম বজলুর রহমানের গৌরবোজ্জ্বল জীবনী:

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, সময়টা জুড়ে ছিল একেএম বজলুর রহমানের বীরত্ব ও সাহসিকতায় গাঁথা। বাংলাদেশের পটপরিবর্তনের সময় গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে তার ভূমিকার কথা ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব। প্রথম সারির নেতা হিসেবে গণমানুষের জন্য কাজ করে গেছেন আমৃত্যু।

বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম বজলুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের সভায় উপস্থিত থেকে কারাবন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বায়ান্নর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া মোড়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের নেতৃত্ব দেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীও হন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় বাংলাদেশ সরকারের ইয়ুথ মুভমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি আগরতলায় ১৭টি গেরিলা ও যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে দেশে এসে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান একেএম বজলুর রহমানের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রজীবনেই। ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাযজ্ঞের পর একেএম বজলুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা। এর কিছুদিন পরেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের এ বিশ্বস্ত কর্মী। এক দশকের বেশি শয্যাশায়ী থাকার পর ১৯৮৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বঙ্গবন্ধুর নিষ্ঠাবান সৈনিক একেএম বজলুর রহমান। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here