মদনে নতুন ঘর পেয়ে খুশি হতদরিদ্র পরিবার

বিধবা ফাতেমা আক্তার ৪০ বছর। একটি ঝুপড়ি ঘরে কাটিয়েছেন জীবনের বেশির ভাগ সময়। ভিটাবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই অসহায় তিন সদস্যের ফাতেমা বেগমের। নেত্রকোনার মদন উপজেলায় চানগাঁও গ্রামের  মৃত  গোলাম মোস্তফার স্ত্রী তিনি।  রোববার তিনি পেয়েছেন আধপাকা দুই কক্ষের একটি ঘর। ফাতেমাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ফিতাকেটে ঘর হস্তান্তর করেন উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান । এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল,ইউপি চেয়ারম্যান এন আলমসহ গণমাধ্যম কর্মীগণ  ও এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।  উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের গৃহহীন পরিবার পেয়েছে ২৬টি ঘর।

গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগসহনীয় বাসস্থান নির্মাণ’ কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলোকে ঘর তৈরি করে দেয় সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ বছর ২৬ জুন থেকে ঘরগুলো নির্মাণ শুরু হয়। প্রতিটি পরিবার পেয়েছে দুটি করে শোয়ারঘর, একটি রান্নাঘর, একটি শৌচাগার ও ঘরের সামনে একটি বারান্দা।ঘর পেয়ে ফাতেমার  পরিবার  খুবই আনন্দিত। তিনি বলেন, এ ঘরটি আমার স্বপ্নের মতো লাগছে। অনেক কষ্টের জীবনে একটি পাকা বাড়ি পেয়ে আমার  পরিবারের প্রত্যেক সদস্য খুশিতে দিশেহারা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগসহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ খাতে এ উপজেলায় বরাদ্দ পায় ৬৭ লাখ ২১ হাজার ৮০৬ টাকা। প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫৩১ টাকা। প্রকল্পের আওতায় যাঁরা ঘর পেলেন, তাঁরা হলেন, উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের আলম,উকিল,জুয়েল চন্দ্র সেন,কাসেম,চানগাঁও ইউনিয়নের সালমা আক্তার,ফাতেমা আক্তার,মন্জু মিয়া,লাল বানু,মদন ইউপি কাঞ্চন,আব্দুল্লাহ,গোবিন্দশ্রী ইউপি ফারুক চৌধুরী,চানঁ মিয়া,অলিউল্লাহ,মাঘান ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলম,মন্জুরুল ইসলাম,আব্দুরাজ্জাক পাঠান,তিয়শ্রী ইউনিয়নের নন্দন রবিদাস,ঝরনা আক্তার,ফাহিমা,নায়েকপুর ইউনিয়নের আব্দুল ফকির,খোকন,মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌস,ফতেপুর ইউনিয়নের স¤্রাট,মন্তু,আয়শা আক্তার,হাবিবুর রহমান খান।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল জানান, উপজেলার ৮ ইউনিয়নে  অসহায় দরিদ্র  ২৬ পরিবারের   মধ্যে  ৬৭ লাখ ২১ হাজার ৮০৬ টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এতে পরিবার গুলো বাসস্থানের সুযোগ পেল।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন , গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগসহনীয় বাসস্থান তৈরির এই উদ্যোগ সরকারের ব্যাপক প্রশংসা  পেয়েছে।  ঘর পেয়ে অসহায় পরিবারগুলো খুব আনন্দিত। প্রতিটি পরিবার এখন নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারবে। এ ধরনের উদ্যোগ আরো গ্রহণ করা হলে গ্রাম গুলো শহরে পরিনত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here