Home সারাদেশ কিশোরগঞ্জ মায়ের কথা রাখেনি রাশেদ, রকেট-বিকাশের ধান্ধায় উম্মাদ কোটা সংস্কার

মায়ের কথা রাখেনি রাশেদ, রকেট-বিকাশের ধান্ধায় উম্মাদ কোটা সংস্কার

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজের বিবেকের কাছে একটিবার প্রশ্ন করবেন কি? রাশেদকে যখম অ্যারেস্ট করে তখন তার মা বলে, ” অামার মানিককে ছেড়ে দাও, ওর কোন চাকরি লাগবে না, ওকে গ্রামে নিয়ে যাবো!!!!! টেলিভিশনের পর্দায় ফলাও করে প্রচার করা হল। নিজেও কাঁদলেন, সবাইকে কাঁদালেন। অাহা! অাচ্ছা, সেই রাশেদ কি গ্রামের বাড়ি গেছে? এখনোতো শহরে বসে বিকাশ, রকেটে টাকা চেয়ে, সেই টাকা দিয়ে ভুরিভোজ করছে। তার মা কথা রাখেননি। তিনি বলেছিলেন ছেলেকে অার অান্দোলন করতে দেবেন না। ওহ অাচ্ছা, অাচ্ছা প্রজ্ঞাপন হলেই তারা অান্দোলন বন্ধ করে দেবে বলেছিল। অামার মনে ছিল না! সেই প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে। তবে কেন এখনো বিকাশ, রকেট? তবে কেন এখনো অান্দোলন? অাপনাদের বলেছিলাম, এরা মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিপক্ষে অান্দোলন করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যখন অসম্মান করলে নানা কটুক্তি করে, তখন অাপনি চেয়ে দেখলেন! তাদের মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে অাঁতাত৷ এই কাজ একমাত্র স্বাধীনতাবিরোধী ছাড়া অার কে করতে পারে?

ঢাবির কোটা আন্দোলনকারীরা লাইব্রেরীতে প্রবেশ করে লাইট ফ্যান বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে হঠাৎ করে কোটা আন্দোলনকারীদের ১৫-২০ জনের একটি দল প্রবেশ করে লাইট ফ্যান অফ করতে থাকে। শিক্ষার্থীরা তাদের বারণ করলে তারা শিক্ষার্থীদের উপর মারমুখী আচরণ করতে থাকে। তারা এক প্রকার জোর করে লাইট ফ্যান অফ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয় দেখায়। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘বেঈমান’ বলে চিৎকার করতে থাকে এবং তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে।
তারা চায়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের সাথে কোটা আন্দোলনে শরীক হোক। এসময় কিছু সাধারণ শিক্ষার্থীর সাথে তাদের বাগবিতণ্ডা চলতে থাকে। একসময়য় তারা মারমুখী হতে থাকে।

রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের সাব্বির বলেন, “আজ ১১টার দিকে হঠাৎ করে তারা লাইব্রেরীতে প্রবেশ করে জোর করে বৈদ্যুতিক স্যুইচগুলি অফ করতে থাকে। সত্যি ভয় পেয়েছিলাম তখন। একসময় এও ভেবেছিলাম “হলি আরটিজান” এর মত কিছু হবে নাতো। আমি ঢাবি প্রশাসনের কাছে গভীর নিরাপত্তা চাই।”

ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের মাসুদ বলেন, “তারা কেন আমাদের গালি দিচ্ছিল তা জানতে চাওয়ায় তারা আমার গায়ে হাত তুলে।”

আইন বিভাগের ছাত্র জাহিদ বলেন, “আমি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় পড়তেছিলাম। হঠাৎ করে ১৫ জনের মত কয়েকজন লাইব্রেরীতে ডুকে লাইট অফ করে দেয়। আমি তাদের জিজ্ঞাস করলাম কেন তারা লাইট অফ করে আমাদের বিরক্ত করছে। তারা উল্টো আমাকে শাসাতে লাগলো।”

উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালের মার্চ থেকে কোটা আন্দোলন শুরু হয়। এপ্রিলের ৮ তারিখ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত তারা একটানা বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা ক্যাম্পাসে সমাবেশ করে এবং ভিসির বাসায় ভাংচুর করে।
তার প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকারি চাকরিতে কোটাপ্রথা বাতিল, সংরক্ষণ বা সংস্কারের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যর কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটি কাজ করছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিকে সম্মান জানিয়ে আন্দোলন স্থগিত করে।
কিন্তু তারপরেও কিছু ছাত্র কোটা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

রিমান্ডে রাশেদ

কোটাসংস্করণ আন্দোলনের টাকা আসে বিকাশ-রকেটে

কোটাসংস্করণ আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাশেদ খান
কোটাসংস্করণ আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাশেদ খান। ফাইল ছবি

কোটাসংস্করণ আন্দোলনের টাকা আসত বিকাশ এবং রকেট অ্যাকাউন্টে। এই টাকা পাঠানো হতো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। এর মধ্যে ১৫টি বিকাশ এবং ৫টি রকেট অ্যাকাউন্ট।

রিমান্ডে থাকা কোটাসংস্করণ আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাশেদ খান রিমান্ডে এ তথ্য দিয়েছে বলে দাবি করেছে ডিবি পুলিশ।

কোটাসংস্করণ আন্দোলনের এই নেতাকে শাহবাগ থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা একটি মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড নেয় ডিবি।

ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে এ ২০টি অ্যাকাউন্টে কী পরিমাণ টাকা এসেছে এবং কোথায় থেকে এসেছে বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিকাশ এবং রকেট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে।

ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এডিসি নাজমুল ইসলাম যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছে।

নাজমুল ইসলাম জানান, রাশেদ খাঁনের কাছে ১৫টি বিকাশ এবং ৫টি রকেট অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। যেসব অ্যাকাউন্ট বিভিন্ন ব্যক্তির নামে। সেখানে আন্দোলন পরিচালনার জন্য টাকা আসত। ওই টাকা দিয়ে তারা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করত।

ডিবির এ কর্মকর্তা আরও জানান, কোটাসংস্করণ আন্দোলনে শলাপরামর্শ হতো ফেসবুক গ্রুপে। গ্রুপের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হতো। সে অনুযায়ী পরের দিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা ঘোষণা করা হতো। আর গৃহীত এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য যে টাকার প্রয়োজন তা বিকাশ এবং রকেট অ্যাকাউন্টে আসত। সাইবার ক্রাইম ইউনিটির এডিসি নাজমুল ইসলাম আরও জানান, কর্মসূচি দেয়ার আগে তারা ফেসবুক গ্রুপ অ্যাম্বাসেডর, অ্যাকটিভিস্ট ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নামের তিনটি ফেসবুক গ্রুপে আলাপ-আলোচনা করত। গ্রুপের আলোচনা অনুযায়ী তারা কর্মসূচি ঘোষণা করত।

তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের এ ধরেনের প্রায় ২০টি গ্রুপ রয়েছে। যেখানে আন্দোলন সম্পর্কে আপডেট তথ্য সরবরাহ করা হতো। এই ২০টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে রাশেদ খাঁন ৫টির অ্যাডমিন ছিল।

ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, আন্দোলনের জন্য তারা সারা দেশ থেকে বাছাই করে ২০ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে।

টাকা কোথায় থেকে আসত জানতে চাইলে এডিসি নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদ জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে টাকা পাঠানো হতো। তবে বিষয়টি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য আমরা বিকাশ এবং রকেট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছি। তারা তথ্য দিলে আমরা জানাতে পারব টাকার প্রকৃত উৎস কোথায়।

 
প্রতিদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নামীদামি রেস্তোরায় থেকে খাবার দাবার সরবরাহ করা হতো… বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হতে আপনারা জানতে পেরেছেন লন্ডনে বসে তারেক রহমান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের এ আন্দোলনকে উস্কে দেওয়ার জন্য সার্বিক সহযোগিতার নির্দেশনা দিয়েছে.. দেশের ভেতরে অবস্থানরত বিএনপি-জামাতের নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ মদদ ও ইন্দন দিয়েছে .কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নাম ব্যবহারকারী সারা দেশব্যাপী যারা কোটা সংস্কার চায় নামে নেতৃত্ব দিয়েছে তারা প্রায় সকলেই শিবিরের সমর্থক ও সক্রিয় নেতা’ আপনারা দেখেছেন সম্প্রীতি কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে বীর মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে কুটুক্তি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার ফলে মুক্তিযোদ্ধারা সন্তানেরা রাজপথে নেমে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম ভিত্তিক সংগঠনসমূহ প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে…

চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব কে প্রদান করে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কোটা সম্পর্কিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে যে কমিটি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে কোটা বাতিলের সুপারিশ করে ,যা পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদের সভায় গত ৩অক্টোবর ২০১৮ তারিখে অনুমোদন দেওয়া হয় ,যার  পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিপত্র জারি করে …যা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান, এবং ৭২এর সংবিধান  অবমাননা ’’আমলাদের এই অসম্মান ও অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ডাকা শাহবাগ চত্বরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম ভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলে 

কোটা সংস্কার:১ডিজাইনের ৫৭হাজার ব্যানার ৮লক্ষ টি-শার্ট সরবরাহ করা হয়

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নামীদামি রেস্তোরা থেকে খাবার সরবরাহ করা হতো

 

কোটা সংস্কার আন্দোলন দিয়ে বাঁচতে চায় গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড যাবজ্জীবন প্রাপ্ত তারেক জিয়া(ভিডিওসহ)

  • কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়েছিল ৫৬% কোটাকে কমিয়ে আনার জন্য।কিন্তুু কুচক্রী মহলের মূল টার্গেট ছিল ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা,যার ৫% ও সঠিকভাবে কার্যকর হয় না।
  • ১৯৭৫-১৯৯৫ মুক্তিযোদ্ধা কোটা কার্যকর ছিল না,এসব সংবাদ সাধারণ শিক্ষার্থীর নিকট দেয়া হয় না,শুধু কৌশলে মুক্তিপরিবারবিধী করা হয়েছে
  • গ্রেনেড হামলার রায়ে যাবজ্জীবন হচ্ছে মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের।আন্দোলনে নামার সাহস ক্ষমতা কোনটাই অমেরুদণ্ডী বি.এন.পি এর নেই।  কোটা আন্দোলনকে রাস্তায় নামিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে সেই নির্মম গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড

 ৩০%কোটা বহাল কেন চাই?পড়ুন,আমলাতন্ত্রের রাহুগ্রাসে মুক্তিযোদ্ধা কোটা

কারণ পাকিস্তানের ইয়াহিয়া খানের দোসর নুরুল আমিন সরকারের অধীনে থাকা অনেক সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে পাকিস্তান কে সহযোগীতা করে যায়। যারা দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও আমলা কামলা হয়ে সরকারি প্রজাতন্ত্রে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করে। যার ফলশ্রুতিতে সরকারি আমলাতন্ত্রে অনেক রাজাকার, আলবদর ও আল শামস ঢুকে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ই ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন জারি করা হয়। এবং সরকারি আমলাতন্ত্রে যেন কোনভাবেই রাজাকার, আল বদর আল শামস স্থান না পায় সেজন্য ১৯৭৩ সালের ১৮ এপ্রিল গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গোলাম আজম গংদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। এছাড়াও সংবিধানের ৬৬ ও ১২২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দালালদের ভোটাধিকার ও সংসদ নির্বাচন বাতিল করা হয়। যাতে কোনভাবেই রাজাকার, আল বদর ও আল শামস বাহিনীর সদস্য ও সমর্থকেরা এদেশের সুযোগ সুবিধা ভোগ না করতে পারে। সেসময়ে রাজাকারদের নিয়ে নানা তর্ক-বিতর্ক দেখা দেয়। যারা প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ নানা জায়গায় ছব্দবেশে নিজেদের অধিষ্ঠিত করেছিল। যার একটি উদাহরণ হচ্ছে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কঃ শেখ মুজিবর রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে কে রাজাকার আর কে নয় তা নিয়ে রেষারেষি দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীকে ডেকে এ বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিলে তিনি এর দায়িত্ব আকবর আলি খানকে হস্তান্তর করেন। রাজাকারদের জন্য তখন একটি আইন প্রচলিত থাকায় এবং সে আইনের অধীনে এ তদন্ত সম্ভব নয় বলে খান নির্দেশানুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন পরিবেশন করে তার অসন্তোষের কথা উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে তার নোটসহ তদন্ত প্রতিবেদন তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর কাছে গেলে তিনি বিষয়টি অণুধাবন করেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে ডেকে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে বলার পরামর্শ দেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, যখনই যা আমার কাছে পছন্দ বা আইনসিদ্ধ মনে হয়নি আমি লিখিত নোট দিয়েছি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা বলছে যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা গৃহীত হতে বাধ্য। সুত্রঃ উইকিপিডিয়া। এরথেকে বুঝা যায় প্রায় সকল ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের সেই পরাজিত শক্তির দোসররা সুকৌশলে এদেশের আমলাতন্ত্র সহ সকল জায়গায় নিজেদের জায়গা করে নেয়। এসব স্বার্থপর দালাল চাটালরা পরবর্তীতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই জাতির জনককে হত্যার নীল নকশা প্রণয়ন করতে থাকে। যার ফলে স্বাধীনতার সেই পরাজিত শক্তির দেশীয় ও বিদেশী চক্রান্তে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। “দুঃখজনক হলেও সত্যি যার নেতৃত্বে ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার, নাম জেনারেল জিয়াউর রহমান। অবৈধভাবে জেনারেল জিয়া অস্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে নিজেই রাষ্ট্রপতি করে। তারপর নিজের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখার স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধে যেসব রাজাকার, আলবদর ও আল শামস অগ্নিসংযোগ, নারীধর্ষণ, লুটপাট ও গণহত্যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সাহায্য করেছে তাঁদের জেলখানা থেকে মুক্ত করে দেয়। সেই পরাজিত শক্তি আবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়”। #আমার প্রশ্ন এই জায়গায়ঃ ১। যারা জাতির জনককে হত্যা করেছে তাঁরা কোন প্রকৃতির মানুষ ছিল? ২। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রাজাকার আলবদরদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় জায়গা করে দিয়েছিল, তাঁরা কতটুকু মুক্তিযুদ্ধের ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে ছিল? ৩। যারা জাতির জনককে হত্যা করে পুনরায় পাকিস্তানের সাথে ফেডারেশন করতে চেয়েছিল তাঁরা কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছিল? ৪। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবদমন করাই যে সরকারের নীতি ছিল তাঁরা কতটুকু মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ সুবিধা দিয়েছিলেন? ৫। যে সরকার রাজাকার আলবদর আলশামস দের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল, তাঁরা দেশ পরিচালনায় আমলাতন্ত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ দিয়েছিল কি? উত্তর একটাইঃ না, না, না, না, না, না, না।
অথচ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিস্ট দালাল আইন প্রণীত হয়েছিল। অথচ জেনারেল জিয়াউর রহমান •অর্ডিন্যান্স নং ৬৩ মত ১৯৭৫ জারি করে দালাল আইন বাতিল করে। •১৯৭৬ সালে একটি একটি অধ্যাদেশ জারি করে ১৯৭২ সালে জারিকৃত “বাংলাদেশ কোলাবরেটরস আদেশ” বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনতা বিরোধী কারাবন্দী শাস্তিপ্রাপ্যদের জেনারেল জিয়া মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বানান। গোলাম আজম কে দেশে ফিরিয়ে আনেন। সংগঠন করার সুযোগ করে দেন। # “জেনারেল জিয়ার সরকার বঙ্গবন্ধু কতৃক বরাদ্দকৃত শহীদ পরিবারের ঘরবাড়ীও কেড়ে নেয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বজন হারাবার শোক নিয়ে, বেদনায় ভরা মন নিয়ে দেশের মাটিতে ছয় বছর পর (১৯৮১) সালে) ফিরলাম। দেখলাম শুধু আমার আপনজনদেরই হারাইনি, হারিয়েছি আমার স্বাধীনতা- প্রিয় স্বাধিনতাকে, যাকে বাংলার দামাল ছেলেরা বুকের রক্ত দিয়ে অর্জন করেছিল, লাল সবুজের পতাকা উড়িয়েছিল। বাঙালির স্বাধীনতাকে বিশ্বমাঝে প্রতিষ্ঠা করেছিল। স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিই আজ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে”। সুত্রঃ শেখ মুজিব আমার পিতা, পৃষ্ঠা ৮৬, লাইন ৫।
উপরোক্ত বক্তব্যের দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ১৯৭৫ সাল পরবর্তী মুক্তিযোদ্ধাদের চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে। #আমার প্রশ্ন হলঃ ১। যেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করে পরাজিত শক্তিকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে সেসময়ে শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর অবস্থা কেমন ছিল? ২। যেসময়ে মুক্তিযোদ্ধারাই তাঁদের অস্তিত্ব সঙ্কটে ছিল, তাঁদের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া, চাকরি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা কতটুকু পেয়েছিল? এই সময়গুলোতে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারগুলো চরম কষ্টে দিনাতিপাত করেছে। যা দেশের ঐ সময়ের যেকোন সচেতন নাগরিকই অবগত আছেন। #এরপর জেনারেল এরশাদের ৩০ মে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হবার পর, রাজনৈতিক অভিলাষ প্রকাশ হয়ে পড়ে। ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে এরশাদ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সাল নাগাদ তিনি প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন। ঐ দিন তিনি দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ.এফ.এম আহসানুদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে নিজের অধিকারে নেন। মুক্তিযোদ্ধাদের দুঃখ দুর্দশা দেখে জেনারেল এরশাদ মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ সুবিধা প্রদান শুরু করেন।
তাঁর সরকার যেহেতু বিতর্কীত ছিল তাই তিনি খুব বেশি সহযোগীতা করতে পারেননি। তবুও এই সরকার ১৯৮৫ সালে কোটা সংস্কার করে মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসিত করে। সে পরিমান ছিল ১% হতে ২% এরকম। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুথানের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতন হয়। #১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া স্বাধীনতার সেই পরাজিত শক্তি জামাতের সাথে জোট বেধে ক্ষমতায় আসে। ফলে আবার রাজাকার আল বদরেরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনার শক্তি ফিরে পায়। তাঁরা নিজেদের পরাজিত ক্ষমতা এদেশের বুকে চিরস্থায়ী করতে সরকারি চাকরিতে সহ সকল স্তরে নিজেদের দলীয় লোকজনদের প্রবেশাধিকার দেয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সরিয়ে রেখে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিকাশ ঘটায়। #দীর্ঘদিনের অবহেলা, বঞ্চনা আর অপমান লাঞ্চনা সহ্য করতে না পেরে মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। ফলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। এই দল ক্ষমতায় এসেই মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসিত করে। কিন্তু হায়! ততদিনে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স শেষ। ফলে সেসময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৩০% কোটা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু ততদিনে দীর্ঘদিনের পরাজিত শক্তির মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হওয়ায় আমলাতন্ত্রের সকল স্তরে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির বিকাশ ঘটেছিল কিনা? অবশ্যই ঘটেছিল। যার ফলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সরকারি চাকরিতে মেধাহীন আখ্যা দিয়ে অত্যন্ত কৌশলে বাদ দেয়া হত। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ১০% এর বেশি সন্তান এই কোটা সুবিধা পায় নাই।
দীর্ঘকালের অত্যাচার নির্যাতন আর অবহেলার ফলে অভাবের কারণেই বলেন আর সুযোগের অভাবের কারণেই হোক মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত থেকে গেছে। অনেক সন্তানের তখনও চাকরি করবার মত বয়সও হয়নি। এমতাবস্থায় বছরের পর বছর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারবর্গ কে অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। এরপর স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির ছায়া সরকার ২০০১ সালে আবার বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসে। নামে মাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের মুল্যায়নের মাধ্যমে ৪৪ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে তাঁদের ক্ষমতায় ব্যবহার করা হয়। আবার শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের করুণ দশা। এবার খুব সুন্দর ও সুক্ষভাবে আমলাতন্ত্রে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীশক্তির প্রবেশ ঘটায়। এরা হল স্বাধীনতার বিরোধী শক্তির নব্য প্রজন্ম। গোলাম আজমের গঠিত সংগঠন শিবিরের হাজার হাজার ছেলে মেয়েকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়। যারা আজ অনেকেই সচিব পদমর্যাদায় পর্যন্ত রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারনীতে রয়েছে। # আমার প্রশ্ন হলঃ ১। সুদীর্ঘ ৩১ বছর যখন স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, এই সময়ে তাঁরা কি তাঁদের নিজেদের শক্তি জনবল কে দেশ পরিচালনার সকল স্তরে নিয়োগ করেনি? ২। এই ৩১ বছর কি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে? হলে তাঁদের আজ অনেকেই নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন কেন? ৩। মুক্তিযোদ্ধার সন্তারদেরও যদি সব সুযোগ সুবিধা দেয়া হত তাহলে আজ কেন তাঁরা রাস্তায় আন্দোলনে নেমেছে? ৪। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষে কি এই ৩১ বছর অপপ্রচার চালানো হয়নি? তাঁদের প্রচারিত অপপ্রচার দ্বারা কি সাধারণ জনগন থেকে শুরু করে ছাত্র/শিক্ষক/আমলা রা প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত হয়নি? ৫। দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস পাল্টানোর হীন চেষ্টা এরা করেছে কিনা? তাঁরা মিথ্যাভাবে জেনারেল জিয়াউর রহমান কে স্বাধীনতার ঘোষক বানিয়েছে। সত্য নয় কি? এসব হয়েছে জন্যই তো আজ প্রকাশে অনেকেই বলেন মুক্তিযোদ্ধা কোটা রাখার প্রয়োজন নেই। তাঁরা কৌশলে নানা কথা বলে। চলুন দেখি তাঁরা কি কি বলেন? ১। মুক্তিযোদ্ধারা কিছু পাবার আশায় দেশ স্বাধীন করেন নাই। ২। কোটা দিলে তাঁদের অসন্মানিত করা হবে। ৩। কেউ কেউ বলছেন দেশে বর্তমানে দেশে কোন মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে নেই। ৪। অনেকেই বলছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মেধাবী নয়। ৫। ফেসবুকে প্রকাশ্যে গালিও দিচ্ছে এ নব্য প্রজন্মের অনেকেই। ৬। দেশ অনেক এগিয়ে গেছে তাই বর্তমানে কোটার কোন প্রয়োজন নেই। ৭। ১৯৭১ সালে জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। আর এখন ১৭ কোটির কিছু বেশি। তাই জনসংখ্যার অনুপাতে কোটা রাখা মানেই বৈষম্য তৈরি করা।
আমরা জানি এসব মদদ কোথা থেকে ছড়ানো হচ্ছে। দেশের আমলাতন্ত্রের শীর্ষে ঐ যে পরাজিত শক্তি ও তাঁদের বংশধারা বিরাজ করছে তারাই আজ নানাভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারবর্গের পিছে লেগেছে। তারাই নানাভাবে এই দেশের সাধারণ জনগণের আবেগ কে পুঁজি করে কুৎসা রটাচ্ছে। #২০০৮ সালে যখন বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এলো। তখন এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়িত করতে এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তাদের পাশাপাশি নাতি নাতনিদের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছিলো। আর এতেই ওদের মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়। মানে সকল কোটাই থাকুক, শুধু মুক্তিযোদ্ধা কোটা টা না থাকলেই হল এই আরকি। ইনিয়ে বিনিয়ে নানাভাবে বলা হয় মুক্তিযোদ্ধা কোটার জন্যই সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাকুরি হয়না। #এমনকি আমাদের পিএসসির সাবেকসহ চেয়ারম্যান অনেক আমলাই কোটা সংস্কারের নামে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের এই আন্দোলনকে আগুনে ঘি ঢেলে দেয়ার মত করে উস্কে দিয়েছেন।
আমার লেখা আগের পর্বগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আমি দেখিয়েছি ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের আন্দোলন কিভাবে ও কাঁদের প্ররোচনায় এই পর্যন্ত এসেছে। #মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের যে জঘন্য রুপ এতদিন এই দেশের স্বাধীনতা বিরোধী আমলাদের মনে লুকিয়েছিল তাঁর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই কোটা বাতিলের মধ্য দিয়ে। কারণ আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম আছি, আমরা সবাই শুরু থেকেই বলে আসছিলাম এই কোটা আন্দোলনের পিছনে ছায়া হিসেবে কাজ করছে ১৯৭১ সালের সেই পরাজিত শক্তি। আমাদের কথা কেউই বোঝা তো দূরে থাক কর্ণপাত পর্যন্ত করতে চায়নি। কিন্তু আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেয়ে ছাত্রলীগ নেত্রী অপর এক শিক্ষার্থীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে বলে গুজব ছড়িয়েছিল। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে যেভাবে হামলা করে আন্দোলনকে হাইলাইটেড করিয়ে খুব সুক্ষভাবে এই আন্দোলনকে একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করা হয়েছিল। এরপর কিন্তু থলের বিড়াল ঠিকই বেড়িয়ে এসেছে। বিদেশ থেকে টেলিফোনে আন্দোলনকে উস্কে দিয়েছিল কে? তা আজ কারোরই জানা বাকি নাই।
এরপর সরকার বাধ্য হয়েই কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়। পরে কোটা পর্যালোচনার জন্য সরকার মন্ত্রীপরিষদের সচিব কে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটি কোন কারণ দর্শানো ব্যতিরেকেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে দেয়। শুধু কোটা বাতিল করে দিলে আজকে আমার এই লেখার অবতারণা করার কোন প্রয়োজনই হয়ত থাকত না। কিন্তু এই কমিটি সরকারি চাকরিসহ সকল ক্ষেত্রে ১ম ও ২য় শ্রেনির চাকরিতে কোটায় আবেদনের যোগ্যতা বাতিল করে। শুধু তাই নয়, যারা কোটাধারী তাঁরা ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীতে আবেদন করতে পারবে বলে বিধান রাখে। যা খুবই দুঃখজনক।
আমার এই দীর্ঘ আলোচনার মূল কথা এখানেই। তাহলে আজ আমরা আমলাতন্ত্রের সেই জঘন্য বিকৃতরুপ দেখতে পেলাম,যারা স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। একটি দেশের আমলারা কিভাবে জাতির সূর্যসন্তানদের অপমান করার সাহস পায়? কিভাবে তাঁরা নির্ধারণ করে কে কোন শ্রেনীতে চাকরি করবে? এই অধিকার কে তাদেরকে দিয়েছে? যারা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করেই নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিল দেশ মাতৃকার তরে। জীবন বাজি রেখে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার লাল সূর্যকে। আমি এই আমলাতন্ত্রের ভিতর পাকিস্তানের সেই পরাজিত শক্তির দোসরদের স্পষ্টভাবে দেখতে পাই। যারা যারা এই দেশের বীর ও বীরের সন্তানদের ৩য় এবং ৪র্থ শ্রেণিতে নামাতে সামান্যতম কুণ্ঠাবোধ করেননি। ধিক্কার এদের প্রতি। মনে রাখবেন আমরা সেই বীরের সন্তান হয়ে প্রয়োজনে জীবনবাজি রেখে হলেও সূর্যসন্তানদের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে একপাও পিছপা হব না। #পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই, আপনার বাবা বঙ্গবন্ধু এদেশেরই ছব্দবেশী কিছু ক্ষমতার লোভী আমলা কামলাদের ষড়যন্ত্রে জীবন দিয়েছেন। আর আজ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে সেই অশুভ শক্তি জানান দিয়েছে যে তাঁদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়নি। আপনিও তাই সদা সর্বদা সতর্ক থাকবেন। মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে। একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরাই নিঃস্বার্থভাবে আপনার পাশে আছে, ছিল এবং থাকবে। আমলাতন্ত্রের অশুভ শক্তি নিপাত যাক। সদা সর্বদা জয় হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল চাই।

৩০%মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল চাই কেন?পড়ুন,নাতি কোটা আলোচনায় থাকছে-দৈনিক মুক্ত আলো

 

৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকুক বর্তমান বাংলাদেশে এটা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো ও যারা পুঙ্খানুপুঙ্খ রুপে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানেন এবং স্বাধীনতার ৪৭ বছরে অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো কি অবস্থা বিরাজমান তা জানেন তাঁরা ব্যতীত কেউই চায় না। কারণ তো একটাই, গত ৪৭ বছরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে যে বিরুদ্ধ চেতনার বিকাশ লাভ করেছে, সেই অপশক্তি মুক্তিযোদ্ধাদের লোভী, ভূয়া ও সুবিধাবাদী বলে সমাজে বদ্ধমূল ধারণা প্রোথিত করতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলাফল আমরা দেখতে পাই ২০১৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের যে আন্দোলন শাহবাগে হয়েছিল। ঐ সময়ে “মুক্তিযোদ্ধার গালে গালে জুতা মারো তালে তালে” স্লোগান দিয়ে পাকি জারজরা যে কোটা বাতিলের আন্দোলন করেছিল সেটা কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল না। সেই চিত্রগুলো আজো বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ও অনলাইনে সংরক্ষিত রয়েছে।
আর সেই আন্দোলনের প্রেতাত্মা ২০১৮ সালের আন্দোলনেও ভর করেছিল সেটা অস্বীকার করবার কোন পথ নেই। আর এদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের গালি দেয়া, কটূক্তি করা ইত্যাদি ব্যাপারগুলো তো খুবই মামুলি হয়ে দাড়িয়েছে।

অনেক সুশীল, সাংবাদিক, আমলা, গবেষক ও বিশিষ্টজন ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোটা বাতিলের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর টকশোতে, ফেসবুকে ও পত্র-পত্রিকায় কোটা সংস্কারের পক্ষে তাঁদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু গড়ে তাঁরা সবাই জেলা কোটা বাতিলের পক্ষে মত দিয়ে অন্যান্য কোটা সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

আমি ১ম পর্বে দেখিয়েছিলাম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও নারী কোটা কোনভাবেই কমানো সম্ভব নয়। বরং কিছু ক্ষেত্রে বাড়ানো যেতে পারে বলেই অনেকে মত দিয়েছেন। তাহলে বলা যায়, শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কোটাই কমিয়ে সংস্কার করা যায় বলে তাঁরা অভিমত দিয়েছেন।
কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো মুক্তিযোদ্ধা কোটা কমিয়ে সংস্কার করতে হবে কেন? মুক্তিযোদ্ধার সব সন্তান কি চাকরি পেয়ে গেছে? নাকি তাঁদের সবারই চাকরির বয়স শেষ হয়ে গিয়েছে কোনটা? নাকি আপনি ভাবছেন যারা চাকরি পাওয়ার যোগ্য তাঁদের সংখ্যা ১২-১৪% এর বেশি নয়।

আপনি যদি কোন জরীপ ছাড়াই এমন ধারণা করে থাকেন তাহলে আমি বলবো নিঃসন্দেহে আপনার ধারণা ভুল। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের চাকরিতে যে কোটা সুবিধা বহাল ছিল তা কতটুকু বাস্তবায়ন করা হত? প্রিলিঃ পরীক্ষা থেকে কি এই সুবিধা দেয়া হত? কতজনকে এই সুবিধা দেয়া হয়েছে তা কোন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান সেই তথ্য কি প্রদান করত? না করত না। আমাদের কে অন্ধকারে রেখে তাঁরা আমাদের প্রদেয় কোটা বিক্রি করে খেত অথবা প্রার্থী নেই বলে কোটার পদ শুন্য রেখে দিত। এসবই তো চলে আসছিল। আর এদিকে একশ্রেনীর আমলা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের উস্কে দিত কোটার কারণে তাঁদের চাকরি হচ্ছে না এই সেই বলে।

এর ফলশ্রুতিতে যেসব ছেলেমেয়ে মাত্র কলেজের গণ্ডী পেড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছে, যার এখনো চাকরিতে আবেদন করার যোগ্যতা অর্জিত হয়নি সেও কোটা প্রথার বিপক্ষে রাস্তায় আন্দোলনে নেমেছে চরমভাবে। মানে নানাভাবে সেই অপশক্তি এই প্রজন্মকে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিদ্বেষী করে তুলেছে।

#এই কোটা বাতিলের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর কিছু সাংবাদিক, ফ্রিল্যান্সার নিজেদেরকে এই আধুনিক প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার মানসে ফেসবুকে, পত্রিকায় ও বিভিন্নভাবে লেখালেখি করে মুক্তিযুদ্ধের স্তুতিগান গেয়ে আন্দোলন কে উস্কে দিয়েছেন। যার বদৌলতে সরকারী চাকরিতে ১ম ও ২য় শ্রেণিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবার গুলোকে রাস্তায় নামতে দেখা গেল। যারা সুকৌশলে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবার কে রাস্তায় নামতে বাধ্য করলেন তাঁরা কি আসলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী?

যারা দেশ দিল,তাদের অসম্মানে তারা আজ বৃদ্ধ বয়সে প্রখর রোদে রাজপথে,রেলপথে
তারা কোটার জন্য নামেনি,তারা রাজাকার প্রজন্মের চালের স্বীকার,আজ তারা অপমানিত

তাঁরা সত্যি কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ দেখতে চায়? চায় না। এদের মুখোশ উন্মোচন হয়ে যাবে সময়ের পরিক্রমায় সন্দেহাতীতভাবে।
যারা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এই প্রজন্মের মুখোমুখি দাঁড় করলো আবার তারাই মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে যখন আন্দোলন শুরু হল নানাভাবে লেখালেখি করে জানান দিলো আমরা মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল চাইনি? কি হাস্যকর একটা ব্যাপার!!!!!!!

#অনেককেই দেখলাম নাতী কোটা নিয়ে তাঁদের খুব বিশেষ চুলকানি আছে বৈকি ঘোরতর আপত্তিও নাকি আছে? আমার প্রশ্ন হলে নাতি কোটা নিয়ে আপনার আপত্তি কিসে ভাই?

#একজন বলেছেন তাঁর জানামতে নাকি মুক্তিযোদ্ধার কোন নাতিই নাকি পিছিয়ে নেই! কত্তবড় আহাম্মক হলে এমন দায়িত্ব জ্ঞানহীন কথা বলা যায় আমার তা জানা নেই। জানি না উনি দেশের কত % অসহায় দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সারাবছর খোঁজ রাখেন? রাজাকার, আলবদর, আল শামস ও পাকি বাহিনী দ্বারা যারাই দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে গিয়েছে তাঁদের সবার বাড়িঘর পুড়িয়েছিল এবং বেঁচে থাকার সব অবলম্বন কেড়ে নিয়েছিল একথা হয়ত কারোরই অজানা নয়?

#আমার কিছু প্রশ্ন আছে উত্তর দেবেন আশা করি?
১। দেশ স্বাধীনের পর শতকরা কতভাগ মুক্তিযোদ্ধাকে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করা হয়েছিল?
২। কতভাগ মুক্তিযোদ্ধাকে সরকারী চাকরিতে সুযোগ দেয়া হয়েছিল।
৩। কতজন মুক্তিযোদ্ধার বাড়িঘর মেরামত করে দিয়ে বেঁচে থাকার নূন্যতম প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছিল। 
৪। গ্রামীণ পর্যায়ে কতজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে রাষ্ট্র উচ্চ পড়ালেখার ও চাকরীর সুযোগ দিয়েছিল।
৫। ১৯৯৬ সালে যখন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটা সুবিধা দেয়া হল তখন কতজন সন্তান উচ্চ শিক্ষিত হতে পেড়েছে?
যেখানে ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের পরিচয় প্রকাশে পর্যন্ত ভয় পেত। সেখানে তাঁদের পারিবারিক অবস্থা কেমন ছিল সেটা সহজেই অনুমেয়?

জানি আমার উপরের প্রশ্নগুলোর সদোত্তোর মিলবে না। এখন আপনি হয়ত বলবেন যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল তাঁরা যে নীতি গ্রহণ করেছিল সেভাবেই সব হয়েছে। জরিপের দায়িত্ব তো ব্যক্তির না। সেটা যেহেতু রাষ্ট্র করেনি সেটা আমাদের বলে কি লাভ?
তাহলে যখন আওয়ামীলীগ সরকার আমাদের সন্তান ও নাতী নাতনীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দিলেন তখন আপনাদের এত চুলকানি কোথাথেকে আসে?

#যখন আমাদের কে সুযোগ দেয়া হল তখন মুক্তিযোদ্ধার অধিকাংশ ছেলের হয়ত চাকরীর বয়স শেষ হয়ে গিয়েছে নয়ত অভাব ও দারিদ্রের কারণে লেখাপড়া করার তেমন সুযোগ হয়নি। আর ২০১০ সালের পূর্বে দেশে কি পরিমান বাল্যবিবাহ প্রচলিত ছিল সেটা তো সবারই জানা। অভাবের তাড়নায় অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের পরিনত বয়সের আগেই লেখাপড়ার সুযোগ বঞ্চিত হয়ে তাঁদের বিয়ের বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়েছে। এরকম অসংখ্য ভূড়ি ভূড়ি নজির আমি আপনাদের দিতে পারি।
আর সেকারনেই সুযোগ বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার গুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে সুবিধা দিতে আওয়ামীলীগ সরকার নাতি কোটার সুবিধা দিয়েছিল। তবে হ্যাঁ! সময়ের পরিক্রমায় কিছু মুক্তিযোদ্ধা পরিবার যে স্বাবলম্বী হয়েছে এবং তাঁদের নারী নাতনিও পিছিয়ে নেই তা বলবো না। তবে সেটা সংখ্যায় কতটুকু?

শহরের বিশেষ কিছু পরিবারের কথা বিবেচনায় আমি যদি ঘুড়ির নাটাইয়ের সূতাই কেটে দেই তাহলে তো মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করা হল না। হলো কি?

আর তাই আমার মতে নাতি-নাতনি কোটা বহাল রাখাও অতীব জরুরী। সেক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করে বিঁধিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে। যে, নাতি-নাতনী কোটায় তাঁরা শুধুমাত্র একটি বিশেষ ক্ষেত্রে সুযোগ পেতে পারে।

আর দেশের প্রশাসন যন্ত্রের সকল স্তরে যে স্বাধীনতা বিরোধী আজো বিরাজমান তা আমাদের স্বপক্ষের শক্তি ভালোভাবেই অবগত। তাই কোনভাবেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যায় না। এত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অবমূল্যায়ন হবে তো বটেই, বরং সময়ের ব্যবধানে এই পরাজিত শক্তি দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হবে।

তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হলে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়তে হলে অবশ্যই ৩০% মুক্তিযোদ্ধা সংরক্ষন করতে হবে। এর বিকল্প অন্যকিছু এই বাংলাদেশে আমরা স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি কস্মিমকালেও মেনে নেব না।

আশা করি জাতির জনকের কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল করবেন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল চাই

বিষয়: মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ

 


আজকের ১০০ জন চাকুরী প্রার্থীর মধ্যে তাই মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ১ জন। বাকী ৯৯ জন অমুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম। স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের স্বীকৃতি হিশেবে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারী চাকুরীতে ৩০% কোটা নির্ধারিত আছে।
বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলে ভাইভা দিতে হয় এবং ভাইভাতে উত্তীর্ণ হওয়া সাপেক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য কোটা বিবেচনায় নিয়োগের জন্য বাছাই করা হয়। শুভঙ্করের ফাঁকিটা এখানেই। যদি শুন্য পদের সংখ্যা ১০০ হয়, তাহলে ভাইভাতে ৩০০ থেকে ৫০০ জন পাশ করে। এদের থেকেই কোটা ও অন্যান্য বিষয়, মেধাক্রম ইত্যাদি বিবেচনায় ১০০ জনকে নিয়োগের জন্য রাখা হয়। যেহেতু মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ১%, তাই টিকে থাকা ৫০০ জনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা থাকার কথা ৫ জন। অথচ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ দেবার কথা ৩০ জন। কাজেই, ৫ জন নিয়োগ দেয়া গেলেও মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থীর অভাবে বাকী ২৫ টি পদ পূরণ করা সম্ভব হয়না। মেধা কোটার মধ্যে থেকেই পরে ঐ ২৫ জনকে নিয়োগ দিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৫% ও পূরণ হয়না।


এদিকে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ম ও ২য় শ্রেণীর শুন্য পদে কোটা ব্যাবস্থা রহিত করা হয়েছে। এই রহিতকরণের ফলে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ অপমানিত বোধ করছেন। কাউকে কিছু দিয়ে তা’ কেড়ে নেওয়াতে যে প্রচন্ড ক্ষোভ মানুষের মনে বিরাজ করে, তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ বুঝবেনা। 

১) সমস্ত শ্রেণীর চাকুরীতে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা ব্যাবস্থা অক্ষুন্ন রাখতে হবে।
২) সরকারী চাকুরীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য কোটায় নিয়োগের জন্য ভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কোটা অনুযায়ী নিয়োগ শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও কোটার সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি: আতিক বাবু

 

স্বাধীনতার পর গত ৪৭ বছরে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সঠিক ব্যবহার ও বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি শেখ আতিক বাবু। তিনি বলেন, ‘৪৭ বছর কোটা ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার হয়নি। এর যথাযথ বাস্তবায়ন যে হয়নি তার প্রমাণও আছে।’

মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন আয়োজিত ‘এবার কোটা বহাল!’ শীর্ষক বৈঠকিতে তিনি এ অভিযোগ করেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় বাংলা ট্রিবিউনের সাপ্তাহিক এই আয়োজন শুরু হয়।

বৈঠকিতে শেখ আতিক বাবু আরও বলেন, ‘যেখানে কোটা একেবারে বাড়ানো বা কমানো যাবে না বলে নিয়ম আছে, সেখানে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।’

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনির চাকরিতে কোটা রাখার বিষয়টির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই কোটা পদ্ধতি যারা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে বাদ দিলেন তারা কি কারও সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন? সেক্টর কমান্ডাররা ছিলেন তাদের সঙ্গে কেউ আলাপ করেছেন? মুক্তিযোদ্ধাদের এভাবে বাদ দেওয়ার কোনও প্রয়োজন ছিল না। তারা এদেশের সূর্য সন্তান।’

মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে  সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মোফাজ্জল করিম, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা ভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর মাসুদ কামাল, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক রশীদ আল রুহানি।

কোটা বাতিলের মাধ্যমে পিছিয়ে-পড়া জনগোষ্ঠীকে আরো পিছিয়ে দেয়া হলো; এটা অসাংবিধানিক : আবীর আহাদ

একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা’র আহ্বায়ক লেখক গবেষক আবীর আহাদ মন্ত্রিসভায় চাকরি সংক্রান্ত কোটা বাতিল অনুমোদনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, কোটা বাতিলের মাধ্যমে পিছিয়ে-পড়া জনগোষ্ঠীকে আরো পিছিয়ে দেয়া হলো, যা সংবিধানের সুস্পষ্ট লংঘন । বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত উপহার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদার প্রতি অসম্মান করা হয়েছে যা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের চরম অবমাননা । আজ এক বিবৃতিতে আবীর আহাদ বলেন, যাদের দাবি ও আন্দোলনের কারণে আজ গোটা কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা হলো, তাদের পূর্বসূরিরা ও তারা কিন্তু এই দেশ ও এই সরকারকে ক্ষমতায় আনেনি, অথচ তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে যেয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির প্রতি যে অবিচার ও তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা হলো তা দেশের জন্য কোনোই মঙ্গল বয়ে আনবে না । এ-পদক্ষেপের মাধ্যমে সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত হানা হয়েছে । আবীর আহাদ বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি ভাবতেই পারি না, যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের পরিচালনায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের শৌর্য বীর্য ত্যাগ রক্ত ও বীরত্ব দিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করেছিল—–তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু একটি কোটা উপহার দিলেন——সেই আওয়ামী লীগেরই হাতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হবে !!! সময় ও বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নাতি-নাতনি বাদ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পর্যন্ত কোটা রেখে এটি সংস্কার করা যেতো । আশা করি সরকার বঙ্গবন্ধুর সম্মান ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদাসহ তাদের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বহাল রাখার বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন ।

স্বার্থপর আন্দোলনের বিজয়! বিবিধ, যুক্তিতর্ক -প্রভাষ আমিন

 

অভিনন্দন কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, সমর্থক সবাইকে। যারা এ আন্দোলন করতে গিয়ে নির্যাতিত হয়েছেন, হাতুরি সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন, কারাভোগ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানাচ্ছি।

স্রেফ আন্দোলন করার অপরাধে যাদের বিরুদ্ধে এখনও মামলা আছে, সেসব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। তবে যারা ভিসির বাসায় হামলা চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানাচ্ছি। অপরাধ করে কেউ যেন পার পেতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

আমি বরাবরই কোটার পক্ষে। স্বাভাবিকভাবেই আমার নৈতিক অবস্থান ছিল আন্দোলনের বিপক্ষে। তবে আমি সবসময় বিশ্বাস করি, যৌক্তিক হোক আর অযৌক্তিক, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার অধিকার সবারই আছে। আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হলেও, যারা আন্দোলন করেছে, তাদের কাছে নিশ্চয়ই তাদের দাবি যৌক্তিকই মনে হয়েছে। তাই আন্দোলনের বিপক্ষে থাকলেও তাদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়েছি।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালেও কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল। সেবার দাবি আদায় করতে পারেনি, তবে হালও ছাড়েনি তারা। ঠিক পাঁচ বছর পর আবার আরেকটি নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নামে তারা। এবার তাদের আন্দোলনকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব পুলিশের। ৮ এপ্রিল পুলিশ হামলা চালিয়ে আন্দোলনে অপ্রতিরোধ্য গতি এনে দেয়। সেই গতিতে আন্দোলন এখন বিজয়ের বন্দরে প্রায়। ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছিল। সেই কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া ঘোষণার বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। তারা ১ম ও ২য় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা না রাখার সুপারিশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ থেকে ফিরলে সচিব কমিটির প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠবে। অনুমোদন পেলেই জারি হবে প্রজ্ঞাপন।

বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। ৫২এর ভাষা আন্দোলন, ৬২এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯এর গণ অভ্যুত্থান, ৭১এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০এর গণ আন্দোলন, ২০১৩এর গণ জাগরণ, ২০১৮এর নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল গৌরব করার মত। এসব আন্দোলনে বৃহত্তর স্বার্থ ছিল। পুলিশী হামলার পর কোটা সংস্কার আন্দোলনকেও মহত্বের আবরণ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলনের মত এমন ব্যক্তি স্বার্থের আন্দোলন খুব বেশি হয়নি। এটা হলো ল্যাং মারার আন্দোলন। অমুককে চাকরি দেওয়া যাবে না, আমাকে দিতে হবে; এটাই হলো এই আন্দোলনের মূল সুর। আন্দোলনকারীরা মুখে বলছেন, তারা কোটা বাতিল নয়, সংস্কার চান। কিন্তু ৫৫ ভাগকে কমিয়ে ১০ ভাগে আনার দাবি আসলে সংস্কারের দাবি নয়, পেছনে অন্য কথা আছে। তারা নারীদের কোটা চায়, আদিবাসীদের কোটা চায়, প্রতিবন্ধীদের কোটা চায়; তাদের আপত্তি খালি মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরিদের কোটা নিয়ে। একটি মহল কৌশলে তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিপক্ষ বানাতে চাইছে। এই কৌশলে তারা যথেষ্ট সফলও। তারা বোঝাতে পেরেছে, তোমাদের চাকরির পথে বড় বাধা মুক্তিযোদ্ধারা। অনেকেই কোটার প্রতিপক্ষ হিসেবে মেধাকে দাঁড় করাতে চান। যেন তৃতীয় শ্রেণি পাওয়া মুক্তিযোদ্ধার নাতি চাকরি পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এটা একটা ভুল ধারণা।

প্রিলিমিনারি, লিখিততে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভাতে কেবল কোটার প্রয়োগ হয়। তাই কোটাধারীদের অমেধাবী বলাটা অন্যায় ও অবমাননাকর। প্রশ্নটা হলো স্বাধীনতাবিরোধী চেতনার কোনো ছেলে যদি ২১ পায় আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কেউ যদি ১৯ পায়; আপনি কাকে চাকরি দেবেন? আমি কিন্তু ১৯ কেই দেবো। আমার কাছে শুধু মেধা নয়, আদর্শটাও গুরুত্বপূর্ণ।

আমি চাই না গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার হোক। তবে ২১এর বিপরীতে ১২ হলে আপত্তি আছে। কিন্তু কোটা সুবিধা পেতে হলে তো মুক্তিযোদ্ধার নাতিকেও ১৯ পেতে হবে। ১৯ পেলে আমার আপত্তি নেই। সংস্কার আমিও চেয়েছিলাম, যাতে কোটায় লোক পাওয়া না গেলে শূন্য না রেখে সাধারণ তালিকা থেকে তা পূরণ করা হয়। এ সংস্কার হয়ে গেছে।

এ বছর আন্দোলনের সময় প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও গত কয়েক বছর ধরেই বিশেষ অনুমতি নিয়ে শূন্য পদ সাধারণ তালিকা থেকে পূরণ করা হয়। ফলে ৩৩তম বিসিএসে ৭৭.৪০, ৩৫তম বিসিএসে ৬৭.৪৯ এবং ৩৬তম বিসিএসে ৭০.৩৮ শতাংশ সাধারণ তালিকা থেকে নেওয়া হয়েছে। তার মানে কাগজে-কলমে ৫৫ ভাগ থাকলেও কার্যত কোটা নেমে এসেছে ৩০ ভাগে। তাতেও সন্তুষ্ট নয় আন্দোলনকারীরা। তারা আসলে মুত্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল চায়।

পড়াশোনা শেষ করে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পেলে যে কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারেন, আন্দোলন করতে পারেন। নগদ বঞ্চনায়, নগদ আন্দোলনে আমার আপত্তি নেই। বঞ্চিত তরুণ শিক্ষার্থীরা হয়তো কোটার পেছনের দর্শনটা ঠিক বুঝতে পারেননি। কিন্তু যারা বুঝে শুনে আন্দোলনে বাতাস দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। ব্যাপারটা তো এমন নয়, আওয়ামী লীগ এই কোটা চালু করেছে। ৭২ সাল থেকে চলে আসা কোটা এতদিন বাতিল করেননি কেন? এতদিন আন্দোলন করেননি কেন? আমার সবচেয়ে অবাক লাগে, এ আন্দোলনে বামদের সমর্থন দেখে।

অন্যরা না বুঝুক, বামদের তো ন্যায্য অধিকারের বিষয়টি বোঝার কথা। সমাজের অগ্রসর অংশ যদি অনগ্রসরদের ব্যথা না বোঝে, তবে বুঝতে হবে সে সমাজ অন্যায়ে বাস করছে। আদিবাসী বা প্রতিবন্ধীরা তো আন্দোলন করে দাবি আদায় করতে পারবে না। তার মানে এই সমাজে যারা সংখ্যায় বেশি, যাদের গায়ে জোর বেশি; তাদের দাবিই পূরণ হবে। এটা অন্যায়, ঘোরতর অন্যায়।

সাধারণভাবে ভাবলে একটি গণতান্ত্রিক দেশে, মুক্তবাজারের এই যুগে কোটা থাকার কোনো মানেই হয় না। সবার জন্য সমান সুযোগ। যে বেশি মেধাবী, সেই চাকরি পাবে। হিসাব বরাবর। কার দাদা মুক্তিযোদ্ধা, কে উপজাতি, কে নারী, কে প্রতিবন্ধী- এই বিবেচনা করার দরকার কি। কোটা দিয়ে বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। সবার জন্য সমান সুযোগ, কোটাহীন, বৈষম্যহীন এমন একটি দেশ, এমন একটি সমাজ বিনির্মাণই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো- এমন একটি দেশ এখনও আমাদের কল্পনারও অনেক দূরে। এখনও আমাদের দেশে পদে পদে বৈষম্য। আর বৈষম্য সৃষ্টি করতে নয়, বৈষম্য দূর করতেই প্রচলন হয়েছে কোটা ব্যবস্থার।

কোটা ব্যবস্থা নতুন কিছু নয়, বাংলাদেশের প্রায় সমান বয়সী। ১৯৭২ সালে একটি সাম্যের সমাজ গড়তে, অনগ্রসর-পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে মূলধারায় আনতেই কোটা ব্যবস্থার প্রচলন। তাহলে আজ এতদিন পর হঠাৎ কেন কোটা বাতিলের আন্দোলন? আমার ছেলে দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ সেন্ট যোসেফ স্কুলে পড়ে। গাড়িতে চড়ে দুই মিনিটে স্কুলে পৌঁছে যায়। স্কুল শেষে কোচিং, বাসায় শিক্ষক, নোটবই, ভালো খাওয়া, উন্নত চিকিৎসা, সুস্থ বিনোদন, হাওয়া বদল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট- গোটা বিশ্ব আসলে তার হাতের মুঠোয়। কিন্তু রাঙামাটির বরকলে আমার কোনো চাকমা বন্ধুর ছেলেকে তো স্কুলেই যেতে হয় ১০ মাইল পাহাড়ি পথ বেয়ে। এত কষ্ট করে যে স্কুলে যায়, সে স্কুলে নিশ্চয়ই ভালো শিক্ষক নেই। হয়তো স্কুলে যায় পান্তা খেয়ে, ফিরে কোনোরকমে পেট পুড়ে খায়। পুষ্টির বালাই নেই, বিনোদনের বালাই নেই, প্রযুক্তির হয়তো চেহারাই দেখেনি। তাকে লড়তে হয় প্রকৃতির বিরুদ্ধে, দারিদ্রের বিরুদ্ধে। তার ৬০ নাম্বার তো আমার বিবেচনায় আমার ছেলের ৯০ নাম্বারের চেয়ে বেশি মূল্যবান। উপজাতি কোটা না থাকলে তো সারাজীবন আমাদের ছেলেরাই চাকরি পাবে, আমার চাকমা বন্ধুর ছেলেকে পরে থাকতে হবে সেই পাহাড়েই।

আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, জেলা কোটা তুলে দিলে বাংলাদেশের ৪টি জেলার মানুষ ৯০ ভাগ সুযোগ পেয়ে যাবে। বাকি ৬০ জেলার শিক্ষার্থীদের তখন আন্দোলনে নামতে হবে। ৪ জেলাই বা বলি কেন, আসলে তখন ঢাকার সেরা ২০ স্কুলের শিক্ষার্থীরাই দখল করে নেবে অধিকাংশ আসন। ঈশ্বরপ্রদত্ত মেধা থাকুক আর না থাকুক, শহুরে মধ্যবিত্তরা তাদের সন্তানদের স্কুল-কোচিং-নোটবই মুখস্ত করিয়ে একটি রোবোটিক মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করছে। কোটা না থাকলে এই রোবোটিক প্রজন্মের কাছে বারবার হেরে যাবে আমার দিনাজপুরের, খাগড়াছড়ির প্রকৃতির সন্তানেরা।

একদম নিজের চেষ্টায়, নিজের মেধায় চূড়ায় উঠে যাওয়ার গল্প তো আসলে গল্পই। তাই আদিবাসী বা প্রতিবন্ধীদের পাশে যদি রাষ্ট্র না দাঁড়ায়, তারা তো অন্যদের সঙ্গে লড়াই করে টিকতে পারবে না, কনুইয়ের গুতায় ছিটকে পড়বে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধী দলীয় নেত্রী নারী, স্পিকার নারী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী নারী। তাই বলে কি আর নারী কোটার দরকার নেই? তেমন মনে হতেই পারে। বাংলাদেশে নারীদের অবস্থা যথেষ্টই ভালো হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে। শহরের স্কুলগুলোতে ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভালো রেজাল্ট করছে মেয়েরা। লাখ লাখ নারী গার্মেন্টসে কাজ করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে। কিন্তু এসবই আসলে এক ধরনের বিভ্রম। এখনও গ্রামে মেয়েদের স্কুলে যেতে হয় অনেক সংগ্রাম করে। অনেক বাবা-মা মেয়েদের ক্লাশ ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়িয়েই বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে যান। তারপর আছে ইভটিজিং, আছে দারিদ্র, পেরুতে হয় কুসংস্কারের পাহাড়। তাই উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা পাওয়া হাসিনা-খালেদা-শিরিন শারমিনদের দেখে আমাদের গ্রামবাংলায় ছড়িয়ে থাকা সখিনা-আমেনা-জরিনাদের বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। আমরা চাই সখিনা-আমেনা-জরিনারাও ম্যাজিস্ট্রেট হোক, পুলিশ অফিসার হোক।

আসলে এত কিছু নয়, দেখেশুনে মনে হচ্ছে কোটাবিরোধী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য রাখা ৩০ শতাংশ কোটা। অনেকেই বলছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা রাখা উচিত নয়। এখন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় লোক পাওয়া যায় না। মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সার্টিফিকেট জোগাড় করে চাকরি পেয়ে যায়… ইত্যাদি ইত্যাদি। এসবই ঠুনকো অজুহাত। তাহলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে আন্দোলন হোক, কোটার বিরুদ্ধে কেন? মুক্তিযোদ্ধারা নিজের জীবনের মায়া না করে দেশের জন্য লড়েছেন, শহীদ হয়েছেন। যখন যুদ্ধ করেছেন, তখন নিশ্চয়ই তারা ভাবেননি, তাদের সন্তানরা কোটায় চাকরি পাবে। তারা ভাবেননি বলে আমরাও ভাববো না? আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, তাদের রক্তে আজকে আমরা স্বাধীন দেশে বসে কোটার বিপক্ষে আন্দোলন করতে পারছি।

দেশ স্বাধীন না হলে এই শিক্ষার্থীদের পূর্ব পাকিস্তানের কোটার জন্য আন্দোলন করতে হতো। তাই এই দেশটার ওপর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি একটু বেশিই থাকবে। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। কিন্তু তাদের অনেকেই ছিলেন কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমোর, গ্রামের সাধারণ মানুষ। তাদের অনেকই ছিলেন প্রথাগত অর্থে অশিক্ষিত। তাই স্বাধীনতার পর চাইলেও রাষ্ট্র তাদের সবাইকে চাকরি দিতে পারেনি।

দেশ স্বাধীন করার মত সাহস থাকলেও, সেই স্বাধীন দেশে কোনো চাকরি করার মত যোগ্যতা তাদের ছিল না। পরে হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গুরুত্ব বুঝে নিজের সন্তানকে কষ্টে-সৃষ্টে পড়াশোনা করিয়েছেন। এখন সেই সন্তানের পাশে রাষ্ট্র দাঁড়াবে না? অবশ্যই দাঁড়াবে। এটা তো বৈষম্য নয়, এটা ঋণ শোধ।

মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট ভুয়া না আসল সেটা যাচাই করার দায়িত্ব পিএসসির বা রাষ্ট্রের। কিন্তু এই অজুহাতে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা যাবে না, তাদের বিপক্ষে রাজপথে স্লোগান দেওয়া যাবে না, তাদের কোটা বাতিলের দাবি করা যাবে না। অবশ্যই যাবে না। অবশ্যই আমার ছেলের চেয়ে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর ছেলে এই দেশে বাড়তি সুবিধা পাবে। যারা দেশের জন্য লড়েছেন, দেশের কাছে তাদের চাওয়ার কিছু না থাকতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের উচিত সবসময় তাদের জন্য বাড়তি আসন রাখা।

আমি মনে করি আস্তে আস্তে যদি এমন দিন আসে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি দেওয়ার মত আর কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না, তখনও এই কোটা বহাল রাখতে হবে, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানানোর প্রতীক হিসেবে। কোটা বিরোধী আন্দোলনের নামে যখন রাজপথে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে, কোনো তরুণ যখন শরীরে ‘আমি রাজাকার’ লিখে রাজপথে নামে; তখন আমি বুঝি এই আন্দোলনের কলকাঠি অন্য কেউ নাড়ছেন।

কোটা সংস্কারের এই স্বার্থপর আন্দোলনের আপাত বিজয় আমাকে বেদনার্ত করেছে, শঙ্কিত করেছে। তাহলে কি এই সমাজে সংখ্যালঘুরা থাকবে না, আদিবাসীরা থাকবে না? গায়ের জোরে আমরা সব দখল করে নেবো, ল্যাং মেরে তাদের ফেলে সব চাকরি নিয়ে নেবো? তাদের জন্য রাখবো কেবল পিয়ন দারোয়ানের চাকরি?

সংবিধানে অনগ্রসর জনগোষ্ঠির জন্য অগ্রাধিকারের কথা থাকলেও আমরা তাদের বঞ্চিত করবো? প্রধানমন্ত্রী কিছুটা অভিমান করে সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলেও তার বিভিন্ন বক্তব্যে বুঝেছি, তিনি কোটার মূল বৈষম্যমুক্তির চেতনা ধারণ করেন। তাই অনুরোধ, তিনি যেন কোটা সম্পূর্ণ বাতিলের সুপারিশে সায় না দেন।

আমি চাই সংখ্যাগরিষ্ঠ অগ্রসর সমাজ অনগ্রসরদের বেদনাটা বুঝুক, তাদের পাশে দাঁড়াক। সমাধানটা কিন্তু কোটা বাতিলে নয়। কোটা থাকলে যত জন বেকার থাকবে, কোটা না থাকলেও ততজনই থাকবে। তাই কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। আর কাজের সুযোগ ন্যায্যতার ভিত্তিতে সবার মাঝে বন্টন করতে হবে।

আমার দাদা যুদ্ধের মাঠে,তোমার দাদা  ঘুমাইছে

 

বাংলাদেশের শিক্ষিত জ্ঞাণপাপীদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাই মুক্তিযুদ্ধ না হলে-স্বাধীনতা অর্জন করা না হলে আপনারা কি করতেন-পাকিস্তানীদের তোসামোদি করতেন?যে মুক্তিযোদ্ধারা আপনাদেরকে সম্মানের জায়গায় বসালেন তাঁদের সঙ্গে মোনাফেকী করলেন?মেধার নামে?মেধাটা কী?কোটাতো বাতিল করলেন এত মেধাবীকে কোথায় চাকুরী দিবেন? সরকারি চাকুরে হওয়ার নামকি মেধা?সরকারি চাকুরেরা কখনও মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারেনি।চাকরতো চাকরই।তারা সরকারি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হুকুম তামিল করা ছাড়া আর কোন কাজ করতে পারেনা। আমি অনেক সচিবকে দেখেছি জ্বি জ্বি করতে-জ্বি জ্বি করার জন্য মেধার দরকার হয়না। মেধাশক্তী কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন করার নাম হচ্ছে মেধা।

দুর্নীতি করা ছাড়া নথীতে গোজামিল লাগিয়ে অর্থ কামানো ও কাজের ফাঁকি দেয়া যে কোন কাজকে দির্ঘায়িত করা তারা আর কি করেন?দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন গরিব মানুষের সন্তান৯০% তারা আজও গরিব মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে সরকারি চাকুরী থেকে চিরতরে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে আন্দোলনের সৃষ্টি করিয়েছিলেন।বিত্তবান/শিক্ষিতরা কয়জন মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন?অকৃতজ্ঞ শিক্ষিত সমাজ,অধ্যপক আমলারা কি জবাব দেবেন নিজ নিজ বিবেকের কাছে,মানুষের বড় বিচারক স্বীয় বিবেক।যাদের বিবেক নেই তারাকি মানুষ? না তারা অমানুষ! তখনও বঙ্গবন্ধু কোটা ঘোষণা করেননি।তৎকালীন পোষ্টাল সার্ভিসে কিছু লোক নেয়া হবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ আলোচনা করলেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।তারিখ নির্ধারণ করা হল আমরা খবর দিয়ে লোকজন জড়ো করলাম। নেতারা আমাকে দায়িত্ব দিলেন“জিপিওতে” লোকজন নিয়ে গেলাম। আমি যাদেরকে শনাক্ত করব তারা চাকুরীতে যোগদান করবে।

সেদিন ১২০০শত লোক নেয়া হল,কোন দরখাস্ত ও পরীক্ষা ছাড়া। অনেকেই বড় কর্ম কর্তা হয়েছিলেন সেদিন নিয়োগ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা পোষ্টাল বিভাগে মেধার পরিচয় দেয়নি? এ রকম আরো উদাহরন দেয়া যেতে পারে।অমুক্তিযোদ্ধা শিক্ষিতরা যত রকম প্যাচ লাগিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে পিচিয়ে দিয়েছে। সে শিক্ষিত অশুভ শক্তী বিদ্যমান আজও।মানুষ শিক্ষিত হয় সৎ ভাল মানুষ হওয়ার জন্য বাংলাদেশে শিক্ষিত হয় দুর্নীতি অপকাজ করার জন্য,শিক্ষিতরাই অকৃতজ্ঞ।অকৃতজ্ঞ শিক্ষিত মানুষ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে প্রয়োজন নেই।আজও অনেক মুক্তিযোদ্ধা না খেয়ে না দেয়ে বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পাচ্ছেন শিক্ষিত জনগোষ্ঠী/সচিব/অধ্যপকদের লজ্জা হয়না।যাদের কারণে তাদের এমন ভাল অবস্থা? বিবেকহীন শিক্ষিত মানুষ পশুর চেয়েও অধম।মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ জনগণের চাহিদা সুশিক্ষিত,কৃতজ্ঞ মানুষ ।জয়বাংলা।

সচিব কমিটি নতুন সংযোজন দেশবাসীকে ম্যাসেজ দিলেন মুক্তিযোদ্ধা’রা রাস্ট্রের ৩য়-৪র্থ শ্রেনীর মানদন্ডে

 

রাস্ট্রের নির্মাতা বীর সৈনিক’দেরকে মেধাবী’রা প্রতিরক্ষার অধিন না রেখে,
রাস্ট্রের সর্বনিন্ম খাত নিরাপত্তা বেষ্ঠনীর অধিন জাতীর শ্রেষ্ঠসন্তান বীর’দেরকে দুস্থ্য বিধবা’দের সারি’তে রেখে প্রতিনিয়তই হেনস্তা হত্যা-খুন করে ভিটাবাড়ি সম্পত্তি হতে উচ্ছেদ করছেন।

 

 

 

এই’মেধাবী’রা ৭২এর সংজ্ঞা-সনদ, তালিকা বাদ দিয়ে, তালিকা নামে ১টি যোদ্ধার দল মুক্তিবাহিনীকে বহুভাগে বিভক্তে তালিকাতে অমুক্তিযোদ্ধাভুক্ত করে,মুক্তিসেনার বীরত্ব-কৃতিত্ব ম্লানে অসন্মানজনক “ভুয়া” শব্দযুক্ত করেছেন।

৩টি শূন্য পদে ৮৫০জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান চাকুরী প্রার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তানভীর চাকুরী না পেয়ে আত্নহত্যা করেছেন। এ’সব করুন ঘটনা মিডিয়া ও মেধাবী’দের নজরে আসেনা।

বিশ্বের সকল দেশে অন-অগ্রসর’দের জন্য কোটা রয়েছে। অন-অগ্রসর’রাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। ও’রা আজও অন-অগ্রসর রয়ে গেছেন।

বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রের মহামান্য রাস্ট্রপতি ও স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদেশে মুক্তিসেনা’দের শ্রেষ্ঠ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ৩০%চাকুরীর কোটা দিয়েছেন। যাহা সংবিধান স্বীকৃত এবং রাস্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতও ৩০%কোটা সংরক্ষন-অনুসরনের নির্দেশ দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা কোটা পরিবর্তন-পরিবর্ধন আইনি ভাবে হতে পারেনা।

জনবান্ধব-উন্নয়নবান্ধব ও মুক্তিযোদ্ধা বান্ধব মুক্তিযুদ্ধ স্বপক্ষ সরকার’কে জাতীয় নির্বাচনের পুর্বে সচিব কমিটি কতৃক অনাঙ্কাকিত নতুন বিতর্কে জড়ানো বা সরকার’কে মুক্তিযোদ্ধা ও জনগনের মুখোমুখি দাঁড় করনো সঠিক হয়েছে, মনে করি না।

বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা এখতিয়ার কারো নেই : আবীর আহাদ

ফলে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার যে তিমিরে ছিলেন তারা প্রায় সে-তিমিরেই রয়ে গেছেন । কোটা পদ্ধতি যে মেধার অন্তরায় নয়, সে-বিষয়টি সজ্ঞানে এড়িয়ে গিয়ে একটি মতলববাজচক্র মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিদ্বেষিত হয়ে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের নামে মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রতি বিরূপতা প্রকাশ করে একটি ধূম্রজাল সৃষ্টি করে দেশকে অস্হিতিশীল করে তোলার ফলে সরকার একটি নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করে । ঠিক এটিকে পুঁজি করে কোটা সংস্কার কমিটি এমন একটি অপরিণামদর্শি সুপারিশ করে তারাও প্রকারান্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছেন । মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিল বলেই আজ তারা এসব আসন লাভ করেছেন । কিন্তু তারা অকৃতজ্ঞের পরিচয় দিলেন ।
আবীর আহাদ বলেন, বঙ্গবন্ধু-কন্যার ওপর আমাদের অপরিসীম আস্থা রয়েছে । জাতির পিতার পুরস্কার অন্ততঃ তিনি অবমূল্যায়ন করতে পারেন না । সুতরাং কে বা কারা মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে কী চক্রান্ত করছে সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয় । এ-জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি । সামনে জাতীয় নির্বাচন । এ-সময়ে এ-নিয়ে হতাশ না হয়ে বা তাঁকে কোনোরূপ বিব্রত না করে কীভাবে বঙ্গবন্ধু-কন্যা আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়ে মুক্তিযুদ্ধের ধারা এগিয়ে নিতে পারেন, সে-জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি ।

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here