মুক্তিযোদ্ধার আলাদা তালিকার প্রয়োজন ছিল না : গয়েশ্বর

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাজাকার-আলবদর-আল শামসের তালিকা হলে মুক্তিযোদ্ধার আলাদা তালিকার প্রয়োজন ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

মুক্তিযোদ্ধাদের নানারকম সমস্যার তালিকার প্রসঙ্গ টেনে আজ সোমবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

গয়েশ্বর বলেন, ‘বাংলাদেশে তৎকালীন সময়ের প্রতিটি মানুষই মুক্তিযোদ্ধা। যে আহার দিছে সে মুক্তিযোদ্ধা, যে পথ দেখাইছে সে মুক্তিযোদ্ধা, যে আমাদেরকে থাকার আস্তানা দিছে সে একজন মুক্তিযোদ্ধা, সে সংবাদ দিছে সেও একজন মুক্তিযোদ্ধা। অর্থাৎ সারা দেশের মানুষই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষেই কাজ করছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের কাজটা (মুক্তিযোদ্ধার তালিকা) করার কী দরকার ছিল? মুক্তিযুদ্ধে যারা বিরোধিতা করেছে রাজাকার-আলবদর-আল শামসের ছোট তালিকাটা যদি আমরা উপস্থিত করতাম তাহলে আলাদা মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করার প্রয়োজন হতো না।’

রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধার দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে গয়েশ্বর বলেন, ‘যারা স্বাধীনতার যুদ্ধের কথা শুনছে তারা এখন তাদের বেলার গল্প করে। যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে তাদের গল্প করার সময় নাই। তাদের সংসার চলে না, তাদের সন্তানদের লেখা-পড়ার আহার জুটে না, তাদের চিকিৎসা জুটে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৭ বছর হয়। প্রতি বছর মুক্তিযুদ্ধের তালিকা বড় হয়, প্রতিবছর মুক্তিযুদ্ধের তালিকা যোগ হয়- এটা কী চলমান ফ্যাক্টরি। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের চ্যাপ্টার শেষ, ওই দিনের পর্যন্ত যারা মুক্তিযুদ্ধ করছেন তারা মুক্তিযোদ্ধা। শুধু তালিকা করে যারা মুক্তিযোদ্ধা হইছে একাত্তরে ১৬ ডিসেম্বরের পরে। এই তাদের তালিকা নবায়ন হয়, তাদের তালিকা নতুন করে হয়, পুরান করে আসে, যায়। যে মুক্তিযোদ্ধা নয়, সেও মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিয়ে ঘুরে। আমরা সবাই যুদ্ধ করেছি কোনো চাকুরি পাব, সার্টিফিকেট দেখাইয়া এটা পামু, সেটা পামু; সেই আশায় যুদ্ধ করি নাই। যুগে যুগে মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে সম্মান্বিত হবে- সকলের কাছে এই স্বীকৃতিটাই যারা যুদ্ধ করছে তাদের চাওয়া। মুক্তিযোদ্ধাদের বেশি যেটা চাওয়া ছিলো সেটা স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আমরা পাই নাই। আজকে আমাদেরকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ: প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আওয়ামী লীগে মুক্তিযোদ্ধা নেই- এই কথা বলা যাবে না, যথেষ্ট পরিমানে আছে। তবে উনারা সবই হলেন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা। রণাঙ্গনে যুদ্ধ করছেন যারা তাদের সিংহভাগ বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। প্রমাণ হলো, তারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। কেউ কেউ হয়ত রাগ করবেন এটা শুনে, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে কেন? কারণ, শেখ মুজিবুর রহমান তখন জেলে আটক ছিলেন। তাও এইদেশে নয়, সুদুর পশ্চিম পাকিস্তানে। তিনি ৪৫ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে জিয়াউর রহমান প্রথমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।’

জিয়ার ঘোষণা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ভুল বুঝাবুঝি না হয় সেজন্য পরে দ্বিতীয়বার সংশোধিত আকারে বললেন, ‘আমি মেজর জিয়া, স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছি আমাদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে। শেখ হাসিনার এই কথাটা মানতে কষ্ট হয় কেন? ওই সময়ে যাদের কান ছিল তারাও শুনেছিল রেডিওর মাধ্যমে। শেখ হাসিনা নিজেও শুনছেন। তিনি কেন বললেন না, আমি শেখ হাসিনা বলছি, শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে আমি স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা করছি। রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব ছিল এটা।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে

গয়েশ্বর আরও বলেন, ‘আমরা একবছর ১০ মাস যাবৎ একটা বির্তকে জড়িয়ে পড়েছিলাম। সেটা খালেদা জিয়ার মুক্তি প্যারোলে না জামিনে। খালেদা জিয়া কী সাধারণ মানুষ? সাধারণের মধ্যে অসাধারণ গল্প-জীবন নিয়ে তার রাজনীতিতে আগমন। উনি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে আপোষহীন নেত্রী হয়েছেন। জনগণের ভাষায় তিনি অভিসিক্ত হয়েছেন ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’। সুতরাং গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রীর মুক্তির জন্য আমরা আদালতে যাবো কেন? একবছর ১০ মাস যদি আদালতের কথা না ভেবে আমরা যদি রাজপথ বেছে নিতাম তাহলে আমাদের নেত্রীকে আটকিয়ে রাখা শক্তি শেখ হাসিনার সম্ভব ছিলো না, এখনো নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে আইনের প্রয়োগ হয় না, যেখানে সুশাসন নাই, যেখানে আদালতে যারা বিচার করেন তারা চাকুরি করেন, তাদের চাকুরি চলে যেতে পারে সরকারের রোষানলে। এর প্রমাণ রয়েছে। সঙ্গতকারণে তারা আজকে ন্যায় বিচার করতে পারছেন না। ন্যায় বিচার করতে পারছেন না কেন? ওবায়দুল কাদের গত পরশু একটা বলেছেন, সকল কিছু সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আছে, পুলিশের ওপর নিয়ন্ত্রণ আছে। তাহলে আদালতও তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’

সংগঠনের সভাপতি মাহফুজুল কবিরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মিয়া মো. আনোয়ার, ভিপি ইব্রাহিম, জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ বক্তব্য দেন।

সূত্রঃ আমাদের সময়


Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here