মৃত্যুতেও মুক্তিযোদ্ধার সনদ মেলেনি কচুয়ার রশিদের

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দেশের জন্য জীবনবাজি রেখে যে মানুষটি লাল সবুজের পতাকা এনে দিয়েছেন সেই মানুষটি মুক্তযোদ্ধা সনদ মেলেনি আজও। তিনি মৃত আমিরুদ্দিন প্রধানের ছেলে এমএ রশিদ প্রধান। তার বাড়ি চাঁদপরের কচুয়ার শ্রীরামপুর গ্রামে। ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৬ই জুন এম.এ রশিদ প্রধান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের আগরতলা যান। সেখানে প্রথমে কাঁঠালিয়া ও পরে বড়মূড়া ইউথ ক্যাম্প ও অন্যান্য ক্যাম্প হতে কচুয়া থানার অন্যদের নির্বাচিত করে মতলবের ফ্লাইট লেফ. এবি সিদ্দিক ও চট্টগ্রামের প্রফেসর মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেন। ১৯৭১ সালে ৬ আগষ্ট আগরতলা দূর্গা চৌধুরীপাড়া মিলিটারী হোল্ডিং ক্যাম্পের মুভিলাইজার কাম লিয়াজন অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের নিয়োগপত্র পান এবং দায়িত্বপালন করেন।

বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে ১৭ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন। থানা প্রশাসন পূনঃস্থাপিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত থানার শান্তি-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এম.এ রশিদ প্রধান মুক্তিযুদ্ধা তালিকাভূক্ত হওয়ার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাময়িক সনদ পাওয়ার সকল প্রক্রিয়ায় অংগ্রহণ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নানা মূখী সিন্ধান্ত ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাচাই নিয়ে বহু বছর টালবাহানার কারণে জীবিত থাকা অবস্থায় তাহার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলেনি। সর্বশেষ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ঘোষিত ২০১৫ সালে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের অনলাইনে আবেদন করেন। সে আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৭ সদস্য বিশিষ্ট যাছাই বাছাই কমিটি কর্তৃক তিনি মুক্তিযোদ্ধা নির্বাচিত হন। ৭ সদস্য বিশিষ্ট যাচাই বাচাই কমিটি কর্তৃক স্বাক্ষরিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে প্রেরিত তালিকার অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধার নামের সাথে এম.এ রশিদ প্রধানের নামের ক্রমিক নং ২২। যা দুই বার যাচাই-বাচাই কমিটি কর্তৃক জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে পৌছানো হয়।

মরহুমের জৈষ্ঠ ছেলে নাছির উদ্দিন প্রধান বলেন, আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহন করেও আজও মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হয়নি। আমার বাবার নাম মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আলহাজ¦ মো. জাবের মিয়া বলেন, মরহুম এম.এ রশিদ প্রধান একজন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সক্রিয় সংগঠক। আমরা তাকে প্রথম দিকে মুক্তিযুদ্ধের সনদ নিতে আহ্বান করি, তিনি রাজি হননি। পরবর্তীতে আমরা উপজেলা যাচাই বাচাই কমিটি তাঁর নাম মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করি। কিন্তু এখনো মন্ত্রনালয় থেকে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।


Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here