লকডাউনে বেড়েছে ই-কুরিয়ারের চাহিদা
লকডাউনে যখন বন্ধ বেশিরভাগ দোকান-পাট ও ব্যবসা-বাণিজ্য, তখন কেনাকাটা বেড়েছে অনলাইন প্লাটফর্মে। ই-ক্যাব বলছে, প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার করে অর্ডার আসছে ভার্চুয়াল এই শপিংমলে। 

যার বেশির ভাগই ঢাকার বাইরের। লাইফ স্টাইল পণ্যের বিক্রি তেমন না বাড়লেও প্রায় ৩০০ ভাগ বেড়েছে নিত্যপণ্যের বেচাকেনা। আর এ অগ্রযাত্রায় দিনরাত ব্যস্ত রয়েছে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো।

ভোক্তাদের মাঝে একটু একটু করে গড়ে তোলা চাহিদা ধরে রাখতে লকডাউনের মধ্যেও কাজ করে যাচ্ছেন অনলাইন প্লাটফর্মের উদ্যোক্তারা। পণ্য পাঠাতে সমস্যা না হলেও বিশেষ এই সময়ে ভোগান্তি বেড়েছে উৎপাদন পর্যায়ে।

করুশৈলী নারী উন্নয়ন সংগঠন ও ট্রেনিং সেন্টারের প্রেসিডেন্ট আনোয়ারা আক্তার শিউলি বলেন, ‘অনলাইনে আমি ভালো করছি। কাঁচামাল যদি না আনতে পারি, পণ্যটা সময়মতো তৈরি করতে না পারি তাহলে আমি ডেলিভারি দেব কীভাবে।’

এএফজেড ক্লোসেটের স্বত্বাধিকারী আসিফ আহমেদ বলেন, আমাদের পণ্য সময়মতো পৌঁছে দিতে কুরিয়ারগুলো যথেষ্ট সহযোগিতা করছে।’

করোনাকালে নতুন করে অনলাইন প্লাটফর্মে যুক্ত হয়েছে এক লাখের বেশি উদ্যোক্তা। তাদের প্রত্যেকের মেধা আর শ্রমে দেশজুড়ে গড়ে উঠেছে একটি ভার্চুয়াল শপিংমল। এসব দোকান থেকে কেনা পণ্য যেন সময়মতো পৌঁছে যায় ভোক্তার হাতে, সে জন্য নানা উপায়ে কাজ করে চলেছে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাব।

উদ্যোক্তা ও ই-ক্যাবের পরিচালক আসিফ আহনাফ বলেন, ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর জন্য এবং লজিস্টিক কোম্পানিগুলোর জন্য এই জরুরি অবস্থায় স্টিকার ইন্ট্রুডিউস করি যার মাধ্যমে তারা ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে দুটি ফ্লিটে আমরা ডেলিভারিগুলো নিশ্চিত করছি। ৭০ শতাংশ গ্রোথটা ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে হয়েছে আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে হয়েছে ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত।’

দম ফেলার ফুরসত নেই পণ্য সরবরাহকারী ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের। কারণ, ভোক্তার চাহিদা পূরণে লকডাউনের এই বিশেষ সময়ে বড় দায়িত্ব পড়েছে তাদের কাঁধে। উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে, ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা ব্যবসায়িক এই চেইন রক্ষায় ‘‌‌পিক অ্যান্ড ড্রপ’ সার্ভিস চালুসহ নানা উদ্যোগে নিয়োজিত রয়েছে কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।

কুরিয়ার সার্ভিস বাহক ডটকমের স্বত্বাধিকারী রিয়াদ হোসাইন জানান, মাছ, মাংস, চাল, ডাল, সবজি এগুলোর প্রচুর পরিমাণে অর্ডার হচ্ছে।

কোন জেলায় কী পণ্য যাবে ঠিক করে দিন ও রাত দুই শিফটে আলাদা করে লোড করা হয় গাড়িতে। এরপর গন্তব্যে পৌঁছতে একে একে ঢাকা ছাড়ে কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here