সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে আক্কেলপুরে প্রকাশ্যে চলছে কোচিং বাণিজ্য

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিরেন দাস(জয়পুরহাট)প্রতিনিধিঃ-শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ার জন্য আর স্কুল কলেজে যেতে হয়না। শুধু হাজিরা ও শিক্ষার্থী হিসেবে তালিকায় নাম থাকার জন্য যায়। পড়া, শেখা ও পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাওয়ার জন্য শিক্ষকদের সৃষ্ট প্রাইভেট হোমে সকাল, দুপুর, বিকাল ও রাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ছুটে বেড়ায় শিক্ষকদের প্রাইভেট পাঠদানে। বিষয়টি ব্যতিক্রম মনে হলেও বাস্তব চিত্র এমনই জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলায়। এতে শিক্ষার্থীদের সময় ও শ্রমের অপচয়ের পাশাপাশি অভিভাবকদের গচ্ছা দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এ কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা সন্তানদেরকে সরকারি স্কুল কলেজের চেয়ে কোচিং সেন্টারে পড়াতে বাধ্য হতে হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শহর থেকে গ্রাম-গ্রাম থেকে শহরের সকল শিক্ষকদের দাবী মেনে নিয়ে বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো সরকারি তালিকাভুক্ত করলেন আর সেই শিক্ষা খ্যাতকে সকল দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতি জিরোটলারেন্স ঘোষণা দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সফল শিক্ষামন্ত্রী দিপু মুনি। পাশাপাশি তিনি শিক্ষা খ্যাতকে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে বিভিন্ন শাস্তিযোগ্য করে সরকারি আইনপ্রণয়নের সরকারি নীতিমালা তৈরি করেন যে নীতিমালায় সর্বপ্রথম উল্লেখযোগ্য রয়েছে কোচিং, প্রাইভেটের প্রতি নিষেধাজ্ঞা। আর এ সরকারি নিষেধাজ্ঞায় সারাদেশে কোচিং, প্রাইভেট বাণিজ্য বন্ধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ চালালেও এর কোন প্রভাব এ উপজেলায় না পরায় বহাল তবিয়তে চলছে কোচিং ও প্রাইভেটের রমরমা বাণিজ্য হোম সেন্টার।
২০১২ সালের ২০ জুন প্রাইভেট টিউশনি বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখানে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে- সরকারি ও এমপিওভুক্ত বে-সরকারি শিক্ষকরা বিদ্যালয় বা নিজের বাড়িতে কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। কিন্তু সরকারি ওই নির্দেশনা অমান্য করে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সহ প্রতিষ্ঠান গুলোর সহকারীরাও শিক্ষক হয়ে কোসিং ও প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। তারা প্রকাশ্যে বাসা অথবা সেন্টারে চালু রেখেছেন কোচিং বাণিজ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ফি দেওয়ার বিনিময়ে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ক্লাস করতে পারবে এ সুযোগের ফায়দা লুটছেন তারা। একই দশা গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। ভোরের আলো ফুটার আগে আর স্কুল ছুটির পরেই কোচিং-প্রাইভেট এ পড়তে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সাথে যেতে হচ্ছে অভিভাবকদের।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলার সকল সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা কোচিং বাণিজ্য। অধিকাংশ শিক্ষক নিজের বাসায় গড়ে তুলেছেন বিকল্প বাণিজ্যিক স্কুল ও প্রাইভেট সেন্টার। উপজেলার পৌর সদরে কোচিং,প্রাইভেট হোমে সয়লাব হয়ে গেছে। সদরেই রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক কোচিং হোম। উপজেলার সকল বিদ্যালয় ও কলেজের কোন না কোন শিক্ষকরা এসব কোচিং,প্রাইভেট বাণিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছেন। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা নীতিমালায় উল্লেখ থাকলেও আক্কেলপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছোট্ট একটি রুমে ১ ঘণ্টার কোচিংয়ে ৩০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে একত্রে পড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ সেখানে নেই বললেই চলে। যেখানে দায়সারা গোছের পাঠদান হচ্ছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়,সকালে ১ ঘন্টা বিকেল ১ ঘণ্টা করে পড়ানো হয় ১ ঘন্টা কোচিং ফি বাবদ ৫ শত টাকা আর দুবেলা তথা ২ ঘন্টার ফি ১ হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে তাদের। কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে সঙ্গে প্রাইভেট পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে নম্বর পাওয়ার প্রতিযোগিতাও। কেন কোচিং করছো, জিজ্ঞাসা করলে শিক্ষার্থীরা বলে, কি করবো? কোচিংয়ে না পরলে পরীক্ষায় পাস করবো কিভাবে? ক্লাসে তো আর সব কিছু শেখানো হয় না। আবার কিছু শিক্ষক আছেন যাদের কাছে কোচিং করলে পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন পত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কেউ কেউ কোচিং না করলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়। কোচিং নির্ভরশীল হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে দূরত্ব দিন দিন বেড়ে চলছে বলেও অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, ক্লাসে তো আর সব পড়ানো হয় না। বাধ্য হয়েই ছেলে-মেয়েদের কোচিংয়ে পড়তে দিতে হচ্ছে। এমনও শিক্ষক রয়েছে যার কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাওয়া যায় না। এতে করে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের শিক্ষা থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি শিক্ষকদের প্রাইভেট ও নাম্বার বাণিজ্যের কারণে প্রকৃত মেধার মূল্যায়নও হচ্ছে না। যে শিক্ষক ভোর ছয়টা থেকে শ্রেণি কক্ষে পাঠ দানের পূর্ব পর্যন্ত একটানা প্রাইভেট পড়ানোর দায়িত্বে থাকেন, তিনি কীভাবে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মনোযোগ সহকারে পাঠদান করাতে পারেন- এ বিষয়টি নিয়ে সচেতন অভিভাবক মহল বেশ চিন্তিত। দারিদ্র্য পরিবারের অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা কোচিং, প্রাইভেট না পড়তে পারায় তাদের শিক্ষা জীবন থমকে যাচ্ছে বলেও জানান।
এমন অভিযোগে সাংবাদিকরা পৌর সদরের বেশ কয়েকটি কোচিং, প্রাইভেট হোমে প্রবেশ করলে তারা সাংবাদিকদের উপস্থিতি টেরপেয়ে সেন্টার গুলো বন্ধ রাখলেও নাম বিহীন দুটি কোসিং সেন্টারে প্রবেশ করে দেখা যায় আবাক চিত্র উপজেলা হাসপাতালের পশ্চিম পার্শে একটি ভাড়া বাড়িতে (HSS) পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কোচিং এ ক্লাস নিচ্ছেন হারুনুর রশিদ (জনি) নামের একজন শিক্ষক যাহার শিক্ষাগত যোগ্যতা জানতে চাইলে বলেন আমি রাজশাহী থেকে ২০১০ সালে ডিপ্লোমা করে বর্তমান আক্কেলপুর মজিবর রহমান সরকারি কলেজের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত আছি, কথাটি হাস্যকর হলেও বাস্তব চিত্র চাই একজন অফিস সহকারী ১ থেকে দেড় হাজার টাকা মাসিক ফি নিয়ে (HSS) শিক্ষার্থীদের কোচিং করাচ্ছেন। পরে তার বিষয়ে জানা যায় জনি অফিস সহকারী ফলে তার মাধ্যমে পরীক্ষার সকল প্রশ্নপত্র ফাশ হয় বলে তার নিকট শিক্ষার্থীরা কোচিং করতে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে আক্কেলপুর থানার মোড় সংলগ্নে চারতলা একটি বাসার দুতলা পঞ্চম শ্রেণী হইতে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন আক্কেলপুর সরকারি এফইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী ফেরদৌস হোসেন। তাহার নিকট কোচিং বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলেন আপনারা জান। পরে ওই সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক নামে পরিচিত বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী ফেরদৌসের বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মতিন এর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন ফেরদৌস কোন শিক্ষক নন, তিনি আমার বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মাত্র আর সে কিভাবে ক্লাস নবম/দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে পারে বিষয়টি আমার মাথায় ঢুকছে না,তিনি আরও বলেন তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সহ আইনগত ব্যবস্থা নিন আমি প্রধান শিক্ষক হিসেবে আপনাদের যা সহযোগীতা করার আমি করবো।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাহার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাকিউল ইসলাম জানান, কোচিং,প্রাইভেট বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আরও আসছে শিক্ষা বাণিজ্যের সকল তথ্য জানাতে আমাদের সাথেই থাকুন

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here