স্বার্থ রক্ষা করতে হবে বিনিয়োগকারীদের

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ারবাজারে আইপিও ছাড়ার ক্ষেত্রে যখন প্রিমিয়াম দেওয়া-নেওয়ার প্রশ্ন আসে তখনই তা নির্ধারিত হয় কথিত যোগ্য বিনিয়োগকারীদের দেওয়া কাট অফ প্রাইসের ভিত্তিতে। কিন্তু এই পদ্ধতিতে ২০১৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রিমিয়ামে বেচা শেয়ারগুলোর প্রায় সবগুলোই প্রাথমিক মূল্যের (আইপিও) অনেক কমে সেকেন্ডারি মার্কেটে কেনাবেচা হচ্ছে এর কারণ-১) যাদেরকে কথিত যোগ্য বিনিয়োগকারী বলা হচ্ছে তাদের কথিত যোগ্যতা যথার্থ নয় বরং যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ। ২) এখানে একটা চক্র কাজ করে যার মধ্যে রয়েছে কোম্পানির মালিক, অডিট ফার্ম, ইস্যুয়ার কোম্পানি আর সর্বোপরি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। ৩) আরো একটি বিষয় লোকচক্ষুর আড়ালে কাজ করে তা হলো—প্লেসমেন্ট শেয়ার। কথিত কাট অফ প্রাইসের মাধ্যমে নির্ধারিত আইপিও মূল্য অপেক্ষা প্রায় অর্ধেকের কম দামে প্লেসমেন্ট শেয়ার আগেই বিক্রি হয়। ইস্যুয়ার কোম্পানি আর প্লেসমেন্ট হোল্ডারদের যোগসাজশে কোনোমতে দুই বছর লকইন পিরিয়ড পার করার পর এগুলোর মূল্যপতন শুরু হয়। তখন অর্ধেক দামে শেয়ার বেচলেও তাদের লোকসান গুনতে হয় না।

এখন তাহলে সমাধান কি? বাজারে তো নতুন ভালো শেয়ারের আইপিও প্রিমিয়ামে আসার সুযোগ বন্ধ করা যাবে না। তাহলে তারা আসতে চাইবে না। আবার বিনিয়োগকারীরা যাতে এসব আইপিও কিনে দীর্ঘমেয়াদে ধারণ করতে চায়, তাদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। তাই যা করতে হবে-১) ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোকে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, এসব কোম্পানি যাদেরকে প্রিমিয়ামে আইপিওতে আনা হচ্ছে, তাদের শেয়ারের এক-তৃতীয়াংশ মূল্যপতন ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে বাই ব্যাক করা হবে। ২) অডিট কোম্পানির যোগসাজশ ধরা পড়লে তাদেরকে আর্থিক জরিমানা করতে হবে। আর আদায়কৃত জরিমানা বিএসইসির ফান্ডে না ঢুকিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বন্টন করে দিতে হবে। ৩) বিএসইসি একটা কথা বলে দায় এড়াতে চায় যে, মানুষ তো প্রসপেক্টাসের বিবরণ পড়েই আইপিও কেনে। কেনে কেন? না কিনলেই তো পারে। এটা যথার্থ উক্তি হতে পারতো যদি বিএসইসি সেগুলো যাচাই-বাছাই করে বাজারে ছাড়ার অনুমতি না দিত। এখানে বিএসইসির দায় সিংহভাগ। কারণ কথিত যোগ্য ব্যক্তিরা যেখানে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে। তাই এই অপকর্ম তথা ব্যর্থতার দায় তাদেরকে দিয়ে শাস্তির বিধান থাকতে হবে।

 শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ সবাই এটা জানে।কিন্তু  এই ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই বিনিয়োগকারীরা এখানে কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করে। কিন্তু তাদের অর্থ ম্যানিপুলেশন করে লুটেরাগোষ্ঠি লোপাট করবে আর সরকার তথা বিএসইসির কর্তারা তার কোনো দায় বহন করবে না, তা হতে পারে না। অন্য দেশের মতো আমাদের দেশেও যোগ্য ব্যক্তিদের পুরস্কার আর অযোগ্যদের শান্তির নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।


Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here