১লা জুনের নমুনা রিপোর্ট এসেছে ১৩ জুন! : অভয়নগরে ১দিনে সনাক্ত ২১জন

Share It
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর : যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে গত ১লা জুন করোনা সন্দেহে উপস্বর্গ বহনকারীদের নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও টানা ১২ দিন পর রিপোর্টা এলো  ১৩ জুন শনিবার। স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন পাঠানো নমুনা থেকে ৮জন করোনা সনাক্ত হওয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে  শনিবার বিকাল পর্যন্ত।
এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে হৈ চৈ শুরু হয় অভয়নগরে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে। বিশ্বস্তু সুত্রে জানা যায়, গত ১লা জুন যাদের নমুনা খুমেকে পাঠানো হয়েছিল তাদের কোন রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছেনা। হঠাৎ করে সন্ধ্যার পর খুমেক সুত্র থেকে জানা যায়, ১লা জুনের নমুনা আজই (শনিবার) অভয়নগর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। তাতে ১৩ জন সনাক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।
এখবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ১লা জুন পাঠানো নমুনা থেকে ১৩ জন সনাক্তের খবর নিশ্চিত করেন। প্রশ্ন উঠেছে, ১লা জুন যাদের নমুনা পাঠানো হয়েছিল তাদের বেশিরভাগই যত্রতত্র বাজার ঘাটে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।
এবং করোনা পজেটিভ ওই ১৩ জনের নাম হলো যথাক্রমে- ইনামুল হাসান, সাইফুল ইসলাম, আ: হাই, শিমুল হক, কিশোর সরকার, সুরাইয়া, মাধুরী সরকার, রাফি, হোসনেআরা, জিয়াউর রহমান, বিনয় কৃষ্ণ, রিভু দত্ত, নাদিরা খাতুন। শনিবারের নতুন সনাক্তের ৮জন সহ সর্ব মোট রেকর্ড ২১ জন করোনায় সনাক্ত হওয়ার ফলাফল দাড়ালো।
এ নিয়ে শনিবার অভয়নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের প্রতিনিধি জেমস আব্দুর রহিম রানা’র সাথে মোবাইল ফোনে  যোগাযোগ করে তারা তাদের আশংকা এবং সংক্রমনের ব্যাপারে উদ্বেগ উৎকন্ঠা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন প্রশাসনকে যত দ্রুত সম্ভব কঠোর অবস্থানে যাওয়ার জন্য।
তারা অভিযোগ করে বলেন, একজন করোনা উপস্বর্গবাহী ব্যক্তি নমুনা প্রদান করে যত্রতত্র শহর ও গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রিপোর্ট আসার পর যারা সংক্রমিত অর্থ্যাৎ পজেটিভ হচ্ছে তাদের সংস্পর্শ্বে থাকা মানুষগুলি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে চলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সময় উপযোগী এবং সঠিক নির্দেশনামুলক সিদ্ধান্ত না নেয়ার ফলে সমাজের মানুষ মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সমাজের সচেতন মানুষের সংখ্যা কম হওয়ায় এবং অসচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক রেডজোন ঘোষিত যশোর জেলার মধ্যে অভয়নগর উপজেলা বিপদজনক অবস্থায় দাড়িয়েছে। শিল্প বাণিজ্য ও অন্যতম বন্দর নগর নওয়াপাড়ায় প্রতিদিন দেশের কৃষিসহ বিভিন্ন সেক্টরে মালামাল নিয়ে হাজার হাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিক ও কার্গো জাহাজের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কার্যক্রম চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের বেধে দেয়া নিরাপত্তা সুরক্ষার কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করছেনা তারা। অথচ স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম না চললে হাজার হাজার মানুষ আবারও অভাব অনাটনে সীমাহীন দারিদ্রতার মধ্যে চলে যাবে বলে অভিজ্ঞমহল মত প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামতে বেরিয়ে আসা চিত্রটি এমনই দাড়িয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা. মাহামুদুর রহমান রিজভীসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী করোনা রোগীদের সেবা প্রদান, বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে তাদের বাড়িতে লকডাউনের ব্যবস্থা করা এবং নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতাল এলাকায় প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন ৮ জন। আর বাকী ১৩ জন বাড়িতে আইসোলেশনে থাকলেও বাকিদের কোন রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছেনা। এনিয়ে ব্যাপক আতংক ছড়িয়ে পড়েছে অভয়নগর উপজেলা জুড়ে।
প্রশ্ন উঠেছে একজন উপস্বর্গবাহী ব্যক্তি নমুনা দেয়ার ৫, ৭, ৯ অথবা ১২ দিন পর যদি তাদের রিপোর্ট পজেটিভ হয় বা পাওয়া যায় এর দায় দায়িত্ব বহন করবে কারা। সরাসরি স্বাস্থ্য বিভাগে নমুনা পরীক্ষাগার হিসেবে খুমেক ও যবিপ্রবি’র জিনুম সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এ দায় নিয়ে সংক্রমন বেড়ে যাওয়ার অনেকাংশে তাদেরকেই বহন করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

Share It
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here